NarayanganjToday

শিরোনাম

সেলিম ওসমানের অনুদানের পরও পূনর্মিলনীতে টাকা আদায়


সেলিম ওসমানের অনুদানের পরও পূনর্মিলনীতে টাকা আদায়

বন্দর নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে সমালোচনা। স্কুলটির একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রবেশ মূল্য সাড়ে ৪‘শ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংসদ সেলিম ওসমানের অনুদান প্রদানের পরও এমন কাণ্ডে সর্বত্র চলছে তীব্র সমালোচনা।

সোমবার (১০ জুন) সকাল ১০ টার দিকে দিনব্যাপী ওই ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ ৬৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ওই স্কুলটিতে জমকালো ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাই এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিলো একটু বাড়তি উন্মাদনা। কিন্তু শিক্ষার্থীদর কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ফি আদায় করার বিষয়টি সে উন্মদনা বিষাদে পরিণিত হয়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফি আদায়ের মাধ্য অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়। স্কুলটির ৪‘শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৪‘শ টাকা করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। তবে, এই ফি আদায়ের কারণে অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয় এই আয়োজন থেকে।

এদিকে এবারের ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে সাংসদ সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। তারপরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৪‘শ টাকা করে আদায় করায় স্কুল কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকা-ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। যদিও শোনা যাচ্ছে, সাংসদ সেলিম ওসমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে, এই কথা অস্বীকার করেছেন স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। তার দাবি, সাংসদ সেলিম ওসমান অনুদান হিসেবে ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়া সাংসদ মহোদয় শিক্ষার্থীদের টিকেটের মূল্য ফেরত দেয়ার কোনো নির্দেশনা দেননি।

এদিকে এবারের ঈদ পূর্ণমিলনীতে শিক্ষার্থীদের থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজনদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। আবার প্রবেশমূল্য নির্ধারণের জন্য স্কুলটির দরিদ্র অনেক শিক্ষার্থীই ওই অনুষ্ঠানে যেতে পারেনি। এ নিয়ে অনেকেই ব্যাপক ক্ষোভ ঝেরেছে। অভিভাবকদের মাঝেও এ নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ৬৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম জমকালো পূর্ণমিলনী  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও স্কুল কতৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিকেট প্রতি ৪’শ ৫০ টাকা করে আদায় করেন। ফলে দরিদ্র শ্রেনীর অনেক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি।  তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বহিরাগত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়।

তবে, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের চাইতে বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষনীয় উপস্থিতির বিষয়টিও তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন এবং সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলে দাবি করেন।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, সাংসদ পতœী নাসরিন ওসমান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সায়মা খানম সহ অনেকে।

১০ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে