NarayanganjToday

শিরোনাম

ধর্ষক অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার পরও বহাল এসআই সাইফুল


ধর্ষক অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার পরও বহাল এসআই সাইফুল

ধর্ষণ অভিযোগে অভিযুক্ত আসামীকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই সাইফুল। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পরও তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

এদিকে ১০ জুন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ধর্ষণ আক্রান্তের শিকার তরুণী তার ২২ ধারায় জবানবন্দিতেও জানিয়েছেন পুলিশের এসআই সাইফুল অভিযুক্তকে থানা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন।

তরুণী তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘এসআই সাইফুল অভিযুক্ত রবিউল হাসান সানিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সে থানায় গিয়ে দেখেন সানি নেই। পুলিশ সানিকে ছেড়ে দেয়।’

এদিকে একজন ধর্ষক অভিযুক্তকে আটক করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরও কীভাবে একজন পুলিশ তার দায়িত্বে বহাল থাকেন, এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতেও ধর্ষক অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসার পরও সে তার নিজ কর্মস্থলে বহাল থাকায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

ধর্ষণের শিকার তরুণী (২২) চট্টগ্রামের হাটহাজারি এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় আক্রান্ত তরুণী বাদী হয়ে রবিউল হাসান সানি ও তার মা এবং ভাইকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। সানি মুন্সিগঞ্জ জেলার ফুলতলা এলাকার নূরুল হক বেপারীর ছেলে।

আদালতে জবানবন্দি প্রদানকালে ওই তরুণী জানায়, ৬ মাস আগে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় রবিউল ইসলাম সানির সাথে। সেখানে তারা একে অপরের সাথে মুঠোফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন। পরে দুজনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু। এক পর্যায়ে তাদের মন দেওয়া-নেওয়া শুরু। এর সূত্র ধরে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। শুক্রবার তরুণী সাইনবোর্ড এলাকায় এসে নামলে সামী তাকে গ্রহণ করে।

তরুণীর দাবি, সাইনবোর্ড থেকে সানি তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে এদিন রাতে (শুক্রবার) এক প্রকার জোর করে তাকে চট্টগ্রামের গাড়িতে উঠিয়ে দিতে শহরের উকিল পাড়া শ্যামলী বাস কাউন্টারে নিয়ে আসে। সে বিয়ে ছাড়া চট্টগ্রামে ফিরবে না জানালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিত-া হয়। এক পর্যায়ে লোকজন জড়ো হলে থানায় খবর দেওয়া হলে সাইফুল নামে একজন পুলিশ আসে এবং সানিকে নিয়ে থানায় যায়। পরে সে থানায় গিয়ে দেখে সানি নেই। থানায় সানির মা আছে। তার মা তরুণীকে নিতে চাইলে সে যেতে রাজি না হয়ে জানায়, সানিকে না পেলে আমি সুসাইড করবো।

এদিকে অভিযুক্ত এসআই সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ধর্ষক অভিযোগে অভিযুক্ত সানিকে ঘটনাস্থলে পাননি। তবে, পরে অভিযুক্তের মা থানায় আসছিলেন। কিন্তু তিনি কৌশলে খাবারের কথা বলে পালিয়ে যান।

তিনি অভিযুক্ত সানিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, আমি ঘটনাস্থলে সানিকে পাইনি। তবে, ছেলেটির মাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিলো বলে স্বীকার করেছেন তিনি। একই সাথে তিনি এই প্রতিবেদককে এ নিয়ে প্রতিবেদন না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে চা খাবেন বলে অনুরোধ রাখেন।

প্রসঙ্গত, ধর্ষক অভিযোগে অভিযুক্ত রবিউল হাসান সানিকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অভিযুক্ত রবিউল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

১১ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে