NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জে ৫ দিনে পাঁচ ধর্ষণ-গণধর্ষণে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা


না.গঞ্জে ৫ দিনে পাঁচ ধর্ষণ-গণধর্ষণে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

নারায়ণগঞ্জে অস্বাভাবিকহারে বেড়ে গিয়েছে ধর্ষণ গনধর্ষণের মত ঘৃনিত কাজ। এর চিত্র দেখে যে কারো মনে হতে পারে প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত এই নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের মিছিল চলছে। প্রায় প্রতিদিনই জেলার কোনোনা কোনো স্থানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে।

সূত্র মতে, ঈদের পর গত ৭ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫ দিনে ৫ টি ধর্ষণ ও গনধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল। অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবে এসব ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১১ জুন) পৃথক দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর একটি বন্দরে অপরটি সিদ্ধিগঞ্জে ঘটেছে। উভয় ঘটনায় পুলিশ দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।

গনামাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ি এদিন রাতে বন্দরের পারটেক্স ক্যাবল কোম্পানীর পাশে ঝোঁপের ভেতর নিয়ে সৎ বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সৎ ভাই হৃদয়। এদিন রাতেই ধর্ষিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করে।

অপরদিকে একই দিন সিদ্ধিগঞ্জ থানাধীন মুন লাইট এলাকায় আবুল কালাম সিকদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হলে পুলিশ বুধবার (১২ জুন) দুপুরে ধর্ষককে গ্রেফতার করে। এর আগেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে আরো একাধিকবার সে ধর্ষণ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সোমবার (১০ জুন) রাতে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শপিং মলের সামনে চলন্ত বাসে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে চালক। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা চালক শামীমকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

এদিকে গত শুক্রবার ৭ জুন রাতে ফতুল্লার বক্তাবলীতে একটি ইট ভাটায় গনধর্ষনের শিকার হয় এক কিশোরী। ওনদিন দুপুরে শামীম নামের এক বন্ধুকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বক্তাবলীর আরাফাত নগর এলাকায় বান্ধুবী মৌসুমীর বাড়ি বেড়াতে যায়। পরে ওই বান্ধবী কিশোরী নিজ ঘরে আটকে রেখে কিশোরীর মায়ের মোবাইলে ফোন করে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে কিশোরীকে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবকের হাতে তুলে দেয় বান্ধুবী মৌসুমী। পরে বখাটে যুবকেরা কিশোরীকে একটি ব্রিকফিল্ডে নিয়ে গনর্ধণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ বান্ধুবী মৌসুমী সহ ৩ জনকে গেস্খফতার করে।

ওই একই দিন পৃথক আরেকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে শহরের উকিল পাড়া শ্যামলী বাস কাউন্টারের পাশে। সে ঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার সহ ধর্ষক রবিউল হাসান সানিকে সদর মডেল থানার এস আই সাইফুল আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেখান থেকে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠে এস আই সাইফুলের বিরুদ্ধে। আর এটি ফলাও করে স্থানীয় বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করলে সব মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে। যার ফলে পুলিশ পুনরায় সেই ধর্ষককে গেস্খফতার করতে তৎপর হয়ে উঠে এবং পরদিনই লিংক রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। 

ধৃত ধর্ষক ওই কিশোরীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে আনে। আনার পরই সে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সচেতন মহল বলছেন, ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কা- ঘটার পিছনে সামাজিক অবক্ষয় অন্যতম কারণ। এছাড়াও তারা বলেন, মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে। যার ফলে তারা পুরুষালী আচরণের কারণে কখনো কখনো হিং¯্র নেকড়ে হয়ে উঠে আর তখনই এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। পাশাপাশি ধর্ষণ ঘটনার বিচার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেও নতুন নতুন অপরাধীরা এসব অপরাধ সংঘটনে বেশি উৎসাহিত হয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান আর দ্রুত বিচারকার্য নিষ্পতি করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া গেলে এসব ঘটনার রাশ টানা সম্ভব। অন্যথায় শিশু, কিশোরী থেকে শুরু করে যে কোনো বয়সের নারীই অনিরাপদ হয়ে পড়বে।

১২ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে