NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে মানুষ


না.গঞ্জে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে মানুষ

নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে মানুষ। সর্বপ্রথম এই মিটারের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ করে জেলার আড়াইহাজার উপজেলা। পরবর্তীতে একই কারণে বন্দর উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা এই মিটারের বিরোধীতা করে বিক্ষোভসহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। সর্বশেষ একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে রূপগঞ্জে।

গ্রাহকদের অভিযোগ প্রি-পেইড মিটারে পূর্বের থেকে অধিক হারে বিল কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই মিটার স্থাপনের পূর্বে এত বিল কোনো গ্রাহককে দিতে হতো না। এখন বিদ্যুতগতিতে তাদের ক্রয়কৃত ইউনিট কেটে নেয়া হচ্ছে। এতে করে ব্যাপক ভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। গ্রাহকেরা এই মিটার তুলে নেওয়ার দাবি করেন। অন্যথায় আরও বড় আন্দোলনের কথা তারা জানান।

মিটার স্থাপনের পূর্বে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিলো, প্রি-পেইড মিটারের সবচেয়ে সুবিধা হলো বিদ্যুতের বিল দিতে গ্রাহককে কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। গ্রাহক কি পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, কত খরচ হয়েছে, কত টাকা বাকি আছে তা জানতে পারবেন। এটা একটি সুবিধা। তার পরে গ্রাহক ইচ্ছা করলে তার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারেন। প্রয়োজন হলে খরচ করবেন, না হলে করবেন না। অন্যদিকে, প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিপিডিসি এবং গ্রাহক দুই পক্ষই সমান লাভবান হবে। আমরা যেমন অগ্রিম টাকাটা পেয়ে যাব, আবার প্রি-পেইড পদ্ধতিতে সিস্টেম লস অনেক কমে যাবে।

অথচ, নারায়ণগঞ্জের গ্রাহকদের দাবি, তারা মিটারে টাকা রিচার্জ করলেই সে টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুরিয়ে যাচ্ছে। যা আগের অবস্থা যখন ছিলো তখনও এত টাকা বিল তাদের দিতে হতো না এখন যাত টাকা এ মিটারে দিতে হয়।

সূত্র মতে, প্রি-প্রেইড মিটারের বিরোধীতা করে তা তুলে নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দারা। চলতি বছরের ২৬ মে ওই উপজেলার কয়েক শত মানুষ সড়কে আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি ম্যানেজারের কার্যালয় ঘেরাও করে। এছাড়াও তারা আড়াইহাজার- গোপালদী সড়ক অবরোধ করেছিলো। পরে কর্মকর্তারা তাদেরর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়।

এদিকে ১৫ জুন বন্দর উপজেলায় বিদ্যুতের প্রি-প্রেইড মিটারের বিরোধীতা করে স্মারকলিপি ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে উপজেলাবাসী। তাদের দাবি, প্রতি ৫‘শ টাকা রিচার্জে সঙ্গে সঙ্গেই ১‘শ চার টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তারা জানান, কোনো রকম পূর্ব প্রস্তুতি বা সেমিনার ছাড়াই প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। আমাদেরকে একরকম জোর করেই এই মিটার স্থাপন করা হচ্ছে।

৫‘শ টাকা রিচার্জে ১‘শ চার টাকা কেটে নেবার বিষয়টি সঠিক নয় মন্তব্য করে বন্দর পল্লী বিদ্যুতের জিএম বলেন, রেট পূর্বে যা ছিল তাই। ৫ পার্সেন্ট ভ্যাট। ডিমান্ড চার্জ প্রতি কিলো ওয়ার্ডেও জন্য ২৫ টাকা,মাসে ৫বার রিচার্জ করলে ৫বার কাটা হবে না। মাসে একবার কাটবে। মিটার ভাড়াা পূর্বে ১০টাকা ছিল এখন ৪০টাকা। এটা প্রযুক্তি ব্যবহারের কারনে। একবারই কাটবে।

এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, ৪‘শ টার পর্যন্ত ৫টাকা সার্ভিস চার্জ নিবে। আর এর উপওে ৫‘শ টাকা থেকে ১৫‘শ টাকা পর্যন্ত ১০টাকা। অফিসে রিচার্জ করলে আমরা কোন ফি নিব না। নগদে সেবা নগদ হতে হবে।

অপরদিকে ১৮ জুন একই দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলায়। এদিন সকালে উপজেলার সওঘাট এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর কার্যালয়ের সামনে শতো শতো এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করে। এর পর তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

গ্রাহকদের দাবি, আগে যে বিল পরিশোধ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতাম এখন তার থেকেও অধিক টাকা খরচ করতে হচ্ছে আমাদের। আমরা এই মিটার মানি না। অতিদ্রুত এই মিটার অপসারণ করতে হবে। নয়তো আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

১৮ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে