NarayanganjToday

শিরোনাম

কথা রেখেছেন এসপি, সন্ত্রাসীদের ‘হিটলিস্ট’ ধরে অভিযান শুরু


কথা রেখেছেন এসপি, সন্ত্রাসীদের ‘হিটলিস্ট’ ধরে অভিযান শুরু

ঈদের পর হকার উচ্ছেদ আর সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামবে জেলা পুলিশ। ঈদ পূর্বে এমনটাই জানিয়েছিলেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। তিনি তার কথা রেখেছেন। মুক্ত করেছেন ফুটপাত। এবং সন্ত্রাস নির্মূলে অভিযানেও নেমেছে পুলিশ। আর এই অভিযানের প্রথম দিনেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ১৫ মামলার শীর্ষ সন্ত্রাসী বোমা লিপু।

সন্ত্রাসী বিরোধী এমন অভিযান প্রতিদিনই চলবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশের একটি সূত্র। জানানো হয়েছে, শহর ও শহরতলীর একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর হিট লিস্ট করা হয়েছে। সেসব লিস্ট এখন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের কাছে। সেই লিস্ট ধরে ধরেই সন্ত্রাস নির্মূলে অভিযান চালানো হবে।

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পরই হারুন অর রশীদ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই জানিয়েছিলেন, যে যত বড় প্রভাবশালী হোক অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ফুটপাত মুক্ত, যানজট নিরসন এবং অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হবে। সেই সাথে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘নো কম্প্রোমাইজ’ নীতি অনুসরণ করবেন। তিনি তার সে কথা রেখেছিলেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও প্রভাবশালী অপরাধীদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে।

সাধারণ মানুষ বলছেন, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের অনুসারি বেশ কয়েকজন অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন হারুন অর রশীদ। যার কারণে সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যানারও সাঁটিয়েছিলেন।

নগরবাসী বলছেন, ঈদের আগে হারুন অর রশীদ জানিয়েছিলেন ঈদের পর হকারমুক্ত ফুটপাত রাখতে কাজ করেবন। তিনি ঈদের পর বঙ্গবন্ধু সড়কের উবয় প¦ার্শ্বের হকার উচ্ছেদ করেছেন। একই সাথে তিনি সন্ত্রাস নির্মূলের কথা জানিয়েছিলেন। সে কথাও তিনি রেখেছেন। শুরু করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল অভিযান। আর এই অভিযানের প্রথম দিনেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ফতুল্লা রেলস্টেশনের শীর্ষ সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসায়ী বোমা লিপু। তার মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেমে এসেছে। অনেকেই এ অভিযানে পুলিশ সুপারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, এমন অভিযান অব্যাহত রাখতে।

এদিকে পুলিশের একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, ঈদের আগের থেকেই জেলা পুলিশ বিশেষ শাখার মাধ্যমে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যুদের একটি ‘হিটলিস্ট’ তৈরি করেছে। এসব লিস্টে একাধিক মামলার আসামী তথা যারাই স্থানীয় পর্যায়ে এবং থানা পুলিশের রেকর্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত তারাই রয়েছে। তবে, এসব লিস্ট তৈরি করতে গিয়ে ব্যাপক যাচাই বাছাইয়ের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, এসব লিস্টে যারা রয়েছে তাদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ ১০ থেকে ১৯ টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। এরা প্রায় সবাই নিজ নিজ থানায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভূক্ত। কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়াতেও রয়েছে। তবে, অভিযানে যতবড় প্রভাবশালীর লোকই হোক না সন্ত্রাসীরা তাদেরকে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে সূত্রটি জানিয়েছে। একই সাথে সূত্রটি জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনাকারী টিম সদস্যদেরকেও কোনো তদবির, কোনো রকম রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রশ্রয় না দিতে।

তবে, এখন দেখার বিষয় সন্ত্রাসী দমনে কতটা সফল হতে পারেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। যদিও সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীরা যদি এসপিকে সন্ত্রাস, মাদক দমনে সহযোগিতা করেন এবং এগিয়ে আসেন তাহলে সত্যিকার অর্থে এই নারায়ণগঞ্জ একটি মডেল জেলায় পরিণিত হবে।

প্রসঙ্গত, পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের তালিকাভূক্ত ১০ নম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু, সাংসদের বন্ধু পরিচয়দানকারী পাগলাবাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি শাহ আলম গাজী টেনু, ১৯ মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন চুন্নকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও ডিস সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বিতকির্তক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, কবির হোসাইন এবং সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাকেও গ্রেফতার করা হয়।

শুধু তাই নয়, অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিনজন ওসি ও বেশ কয়েকজন এসআইস ও এএসআইকে ক্লোজডও করেছেন হারুন অর রশীদ। তার মতে, পুলিশ অপরাধ করলেও তার ছাড় নেই। কেবল আমার কাছে অপরাধীর তথ্য দিন।

২০ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে