NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীম ওসমানের ইচ্ছেতে টেনু, সেন্টু বসিয়ে দিলেন তিনজন!


শামীম ওসমানের ইচ্ছেতে টেনু, সেন্টু বসিয়ে দিলেন তিনজন!

পাগলা বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন নিয়ে চলছে ‘ভানু মতির খেল’। এই নির্বাচনে পুনরায় সভাপতি প্রার্থী হবেন বিতকির্ত শাহ আলম গাজী টেনু। তাকে নির্বাচিত করার লক্ষ্য নিয়েই একটি প্রভাবশালী মহল মাঠে নেমেছে। এই মহলটিই পর্দার আড়াল থেকে ইতোমধ্যে নানা ধরণের খেলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে শাহ আলম গাজীর বিপরীতে তিনজন প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও রহস্যজনক ভাবে তারা প্রার্থী হবেন না, এমন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। ফলে, টেনুর বিপক্ষে নির্বাচন করার আর কেউ রইলো না।

তফসিল ঘোষিত না হওয়া এই নির্বাচনে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন ইতোপূর্বে চাঁদাবাজি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শাহ আলম গাজী টেনুর বিপরীতে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হতে সাহস দেখাচ্ছে না। ফলে, পাগলা বাজার নির্বাচনে সভাপতি পদটি ছাড়া বাকি সব কটি পদে নির্বাচন হবে তা এখনই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

বলা হচ্ছে উপর মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করে সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চাওয়া মাজহারুল আলম মিথুন, সাজ্জাদ পারভেজ মনা এবং মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মাজহারুল আলম মিথুন হচ্ছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর ভাই।

সূত্র জানায়, ২২ জুন ছিলো পাগলা বাজার সমবায় সমতির বার্ষিক সাধারণ সভা। এই সভাতে বছরের আয় ব্যায়ের হিসেবে দাখিল করা হয় এবং আগামী অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়। সভাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। তার উপস্থিতিতেই টেনুর বিপরীতে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া তিন প্রার্থী নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, শাহ আলম গাজী টেনু সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন। তাকে এই সমিতির সভাপতি হিসেবে পুনরায় চাচ্ছেন শামীম ওসমান। তবে, প্রত্যক্ষ ভোটে টেনু নির্বাচিত হতে পারবেন না।

কেননা, বাজার সমিতির অধিকাংশ সাধারণ সদস্যই নেতৃত্বে পরিবর্তন চান। কিন্তু এই পরিবর্তন চাচ্ছে না একটি মহল। ফলে, মহলটি টেনু বিপরীতে প্রার্থী হতে চাওয়া ওই তিন প্রার্থীর উপর চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। আর সেসব হয়েছে পর্দার আড়ালে। এ নিয়ে সাধারণ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অপরদিকে, প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া তিন ব্যক্তি কেউই নেপথ্য কারণ কি, সে নিয়ে মুখ খুলছেন না। তাদের একজন এখনই এ ব্যাপারে মুখ খুলবেন না বলে জানান। তার বক্তব্য, তিনি এক সপ্তাহ পর এ নিয়ে যা বলার বলবেন।

এদিকে একটি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুন সমিতির সাধারণ সভায় সাংসদ শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে এক এক করে তিন প্রার্থীই মঞ্চে এসে প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা না দেন। তবে, এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন সাজ্জাদ পারভেজ মনা। তিনি যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রার্থী হবেন না বলছিলেন, তখন তার কণ্ঠ ছিলো কান্না জড়িত এবং মঞ্চ থেকে নেমে আসার সময় তার চোখ ছিলো জলের ছলছল। তাই তাদের উপর যে অদৃশ্য একটি শক্তির চাপ ছিলো সেটি সাধারণ সদস্যদের মাঝে স্পষ্ট হয়ে উঠে।

একটি সূত্র বলছিলো, সাংসদ শামীম ওসমান টেনু গাজীকে সমিতির সভাপতি রাখার জন্য কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলমের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ওই তিনজনকেই বসিয়ে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে মনিরুল আলম সেন্টু ব্যাপারটি পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও তার দাবি, “ব্যাপারটি প্রভাব বিস্তার নয়। এমপি সাহেব সমন্বয় করার কথা বলেছিলেন। যাতে নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব, মন কষাকষি না হয়। তাছাড়া টেনু গাজী অসুস্থ মানুষ। সে হিসেবে বিবেচনা করে তাদেরকে রিকোয়েস্ট করে প্রার্থীতা থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়।”

এ প্রসঙ্গে জানতে সাজ্জাদ পারভেজ মনার সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখন কোনো মুখ খুলবো না। যা বলার আগামী এক সপ্তাহ পরে বলবো।” নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পিছনে কারো কোনো চাপ ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি ওই একই উত্তর দেন।

এদিকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাজহারুল আলম মিথুন জানান, “মনিরুল আলম সেন্টু আমার বড় ভাই। তার রিকোয়েস্টে আমি এবং জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছি। সেন্টু ভাই বললেন, ‘টেনু গাজী অসুস্থ মানুষ, এবার তাকেই সুযোগ দেওয়া হোক। তাহলে আর নিজেদের মধ্যে কোনো নির্বাচন করতে হলো না।’ তাই আমরা নির্বাচন করবো না বলে ঘোষণা দিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, সাংসদ শামীম ওসমানের বন্ধু পরিচয়ে পাগলা এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন শাহ আলম গাজী টেনু। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়েই নানা অভিযোগ শোনা যেত। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের দুজনকে বেঁধে পেটানো ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেছিলো। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে সে স্বরূপেই রয়েছেন।

২৩ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে