NarayanganjToday

শিরোনাম

নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন ‘বাংলার সিংহাম’ এসপি হারুন


নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন ‘বাংলার সিংহাম’ এসপি হারুন

টাকা ছাড়া চাকরি! তা-ও আবার পুলিশে! সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাসটি উঠে গেছে অনেক আগেই। সবার মাঝেই ধারণা, টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি মিলবে না। কাউকে না কাউকে, কোনো না কোনো দালাল ধরতেই হবে চাকরির জন্য। কিন্তু মানুষের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভাবেই ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ।

‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি পাওয়া এই পুলিশ সুপার টাকা ছাড়াই পুলিশ কনেস্টবল পদে চাকরি দিচ্ছেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে। যা সত্যি অবিশ্বাস এবং নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মতোই ঘটনা। ফলে হারুন অর রশীদের এমন উদ্যোগে সর্বোচ্চ দু’শ নারী-পুরুষ নিয়োগ পাবেন পুলিশের কনস্টেবল পদে।

যদিও এর আগের বছর নারায়ণগঞ্জে কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে ঘটেছিলো তুলকালাম কাণ্ড। ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিলো বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তবে, এবার আর সেটি হতে দেননি নারায়াণগঞ্জে নতুন যোগদান করা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, কনস্টেবল পদে কোনো টাকা, তদবির চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছিলেন, পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি নিতে একটি টাকাও দিতে হবে না। চাকরির জন্য কেউ যেন কাউকে একটি টাকাও না দেয়। চাকরি দেবার নাম করে কেউ টাকা নিলে সাথে সাথেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও কথা বলেছেন। পুলিশ সুপার তার কথা রেখেছেন। ফলে মাত্র ১‘শ টাকার ব্যাংক ড্রাফটের বিনিময়ে শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন চাকরি ইচ্ছুক প্রায় এক হাজার জন।

২৪ জুন চাকরিপ্রার্থীদের ওই শারীরিক পরক্ষী অনুষ্ঠিত হয় মাসদাইর এলাকায় জেলা পুলিশ লাইন্সে। শারীরিক পরীক্ষায় ৫৭৩ জন যোগ্যতা অর্জন করেন রিটেনের জন্য। তারা ২৫ জুন অনুষ্ঠিত রিটেনে অংশ নেন। এরপর আরও দুই ধাপে ভাইবা ও মেডিকেল পরীক্ষা শেষে যারা টিকবে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন করে ২‘শ জন নারী-পুরুষকে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে, শেষ পর্যন্ত সকল ধাপ পেরিয়ে যদি দু’শ জন না টিকে তবে এর সংখ্যা কিছু কম হতে পারে। আবার বেশি হলে তাদেরও নিয়োগ দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা তিনি করবেন বলেও জানা গেছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে।

সূত্র বলছে, ইতোপূর্বে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জের জন্য যে কোটা নির্ধারণ করা হতো তা কখনোই পুরণ হতো না। ফলে, এবার পুলিশ সুপার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, কোটার থেকেও যদি বেশি প্রার্থী এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচাই, বাছাই ও পরীক্ষা শেষে টিকে যায় তাদেরকে পূর্বের কোটা পুরণ না হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য সুখবরই বটে।

এদিকে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ কনস্টেবল নিয়োগ প্রসঙ্গে আগেই জানিয়েছিন, ‘সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল পদে চাকরি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ বিভাগে চাকরি হয়। এ ব্যাপারে কেউ একটি পয়সাও নিতে পারবেন না। কারও তদবিরে কোনো কাজ হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে।’

পুলিশ সুপারের কণ্ঠে এমন কথা শোনার পর অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন তিনি কথার কথা বলছেন। কিন্তু সেই কথার সঙ্গে কাজের হুবহু মিল রেখে রীতিমতো দৃষ্টান্তই স্থাপন করতে চলেছেন এসপি হারুন অর রশীদ। কেননা, এখনও পর্যন্ত তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। দৃঢ়তার সাথে, স্বচ্ছতার মধ্য দিয়েই কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুই ধাপ ইতোপূর্বে শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ জুন সকাল দশটায় রিটেন পরীক্ষার ফলাফলের পর বোঝা যাবে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৭৩ জনের মধ্যে কতজন ভাইবার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন।

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আর্থিক বাণিজ্য ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার আশা করছেন পরীক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা। পুলিশ সুপারের এই স্বচ্ছ নিরপেক্ষ উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা পাচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ায় প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন এখন এসপি হারুন অর রশীদ।

২৬ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে