NarayanganjToday

শিরোনাম

আজমেরী ওসমান নয় নেপথ্য নায়ক ডিস বাবু, দাবি হাবিবের


আজমেরী ওসমান নয় নেপথ্য নায়ক ডিস বাবু, দাবি হাবিবের

আজমেরী ওসমান নয়; ফুডল্যান্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের নেপথ্য নায়ক হিসেবে আব্দুল করিম বাবুকেই দায়ী করলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাবিবুর রহমান হাবিব। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে মুঠোফোনে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়াতে এ দাবি করেন তিনি।

২৫ জুন রাতে শহরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত হাবিবের মালিকানাধিন ফুডল্যান্ড বেকারীতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটও করে। যা সিসি টিভির ফুটেজেও সংগৃহিত রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাবিব।

এ ঘটনায় ২৬ জুন সদর মডেল থানায় দারুন, রমজান, পিন্টু, শিপলু ও ম্যাঙ্গোর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন হাবিব। তবে, মামলাতে আব্দুল করিম বাবু ওরঢে ডিস বাবু এবং লিমন ফকিরের নাম না থাকলেও নতুন করে এ দুই নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন হাবিব।

এদিকে ফুডল্যান্ডে হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাটের ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত এবং যাদেরকে মামলায় আসামী করা হয়েছে তারা সকলেই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের অনুসারি বা লোক হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। আবার মামলার বাদী যিনি সেই হাবিবুর রহমান হাবিবও আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠজন এবং মহানগর যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক।

নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি আজমেরী ওসমানের সাথে চলেছি। তার নির্দেশ দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট করাবে সেটি আমি বিশ্বাস করি না। পুরো ঘটনার নেপথ্য নায়ক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু।

তিনি দাবি করেন, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৭ নং ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গেল বৈশাখে ব্যানার করেছিলাম। সেখানে সবাইকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নির্বাচন করার ব্যাপারটিও তুলে ধরি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু।

হাবিব বলেন, লিমন ফকির ডিস ব্যবসা করে সে সুবাধে ডিস বাবুর সাথে তার ভালো সম্পর্ক, দারুন, পিন্টু, ম্যাঙ্গো, শিপলু আজমেরী ওসমানের লোক হলেও তাদেরকে মূলত লিমন ফকিরই চালনা করে। ফলে ডিস বাবুর নির্দেশে লিমন ও দারুন একবার আমাকে ডিস বাবুর অফিসে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে ডিস বাবু আমাকে ধমকিয়েছে। নির্বাচন করার অধিকার একমাত্র তার রয়েছে, তার বিপরীতে অন্য কেউ নির্বাচন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে হামলার মূল উদ্দেশ্যই ছিলো আমাকে হত্যা করা। ভাগ্যক্রমে আমি বেকারীতে উপস্থিত ছিলাম না। তাই তারা বেকারীতে ব্যাপক তা-ব চালিয়ে লুটপাট করেছে। সেসব দৃশ্য ভিডিও ফুটেজেও আছে। সেখান থেকে হামলাকারিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করলেই ডিস বাবুর সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসবে।

হাবিব আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হবে, বা এই হামলা চালানোর নির্দেশ আজমেরী ওসমান দিয়েছে এটা আমি বিশ্বাস করি না। এমনকি এসব ঘটনা সে নিজেও জানতেন না। তার যদি দরকার হতো সে আমাকে ডেকে নিতো, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর লুটপাট করাতো না। কেননা, আমাদের জমি সক্রান্ত বিষয়ে যে সমস্যা ছিলো সেটি আজমেরী ওসমানই সমাধান করেছে তাই আমি বিশ্বাস করি না সে এ কাজ করেছে।

এদিকে ফুডল্যান্ডের মালিক হাবিবুর রহমান হাবিবকে মানসিকভাবে অসুস্থ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু। তিনি বলেন, হাবিব মানসিক রোগি আর তাই সে একেক সময় একেক মন্তব্য করছে। আমি কেন তার প্রতিষ্ঠানে হামলা করাতে যাবো? সে যাদেরকে অভিযুক্ত করছে লিমন, দারুনতো তারই বন্ধু।

আব্দুল করিম বাবু আরও বলে, হাবিব নিজে একজন মাদকাসক্ত আর সেটি তার স্ত্রী নিজে এসে আমাকে বলেছে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। বেশ কয়েকবার হাবিব তার স্ত্রীকে মারধর করে বেরও করে দিয়েছিলো। এলাকার মুরুব্বিরা সেসব জানে। আমিও তার বেশ কয়েকটি ঝামেলা মিটিয়ে দিয়েছিলাম একজন জনপ্রতিনিধি।

তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি, নোংরা রাজনীতি করি না। হাবিবের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিলেই জানতে পারবেন। সে নিজেই বাহিনী পালে। চাঁদাবাজি করে। সন্ত্রাসী করে। এসব এলাকাবাসী জানেন। চাঁদাবাজির কারণে সে গ্রেফতারও হয়েছিলো। তাছাড়া হাবিব যে দাবি করেছে তাকে আমি ধরিয়ে এনেছিলাম। সেটি মিথ্যা। সে যে সময়ের কথা উল্লেখ করেছে সেসময় আমি জেলখানাতে ছিলাম। তাহলে তাকে কীভাবে ধরিয়ে আনি? নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে। সে নির্বাচন করতে চাইলে সেখানে আমার আপত্তি থাকার কথা নয়। মূলত আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যিনি পরাজিত হয়েছিলেন তিনিই হাবিবকে দিয়ে এসব বলাচ্ছেন।

এদিকে সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বাদী চাইলে দুজনের নাম যুক্ত করার আবেদন করতে পারেন। তবে, সেটি আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। কিন্তু বাদী যাদের নামই যুক্ত করুক না কেন, তদন্তের বাইরে আমরা যাবো না। তদন্ত করে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাবো আমরা কেবল তাদেরকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তাদেরকে শনাক্ত করে তারপর অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা দুজন নির্দেশদাতার নাম জানিয়েছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে সে নাম আমরা বলতে পারছি না। আরও যারা হামলায় ছিলো ভিডিও ফুটেজে তাদেরকেও শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

২৭ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে