NarayanganjToday

শিরোনাম

সেই পরিমল-পান্না মাস্টারের প্রেতাত্মা আরিফ, ছাত্রীর মাকেও ছাড়েনি!


সেই পরিমল-পান্না মাস্টারের প্রেতাত্মা আরিফ, ছাত্রীর মাকেও ছাড়েনি!

শিক্ষক সমাজের মধ্যে ঘৃণিত এক ইতিহাস হয়ে আছে ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের পরিমল এবং কুষ্টিয়ার পান্না মাস্টার। এবার তাদের মতোই আরেকজন শিক্ষকের আবির্ভাব ঘটেছে। তিনি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক আশরাফুল আরিফ। স্কুলটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সে।

ওই স্কুলটিতে আরিফ গত আট বছর ধরে ইংরেজি ও গণিত বিভাগে পড়াচ্ছিলো। এরমধ্যে গত ৫ বছর তার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয় অন্তত ২০ ছাত্রী। তাদের আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ধারণ করে বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে সে। আর তাকে সাহায্য করার অভিযোগ একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার।

ভয় এবং লোকলজ্জায় নিজ পরিবারকেও এসব ঘটনা জানাতে সাহস করেনি ভুক্তভোগি ছাত্রীরা। এরমধ্যে কেউ কেউ ৫ম শ্রেণি থেকেই ওই শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে আসছিলো। ইন্টারনেটে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সে নিজের কাছে আসতে বাধ্য করতো ছাত্রীদের। এভাবেই চলছিলো দীর্ঘ পাঁচবছর।

এরমধ্যে গত তিনদিন ধরে ওই শিক্ষকের অপকর্মের ফিরিস্তি মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকাবাসীর মুখে মুখে ফিরছিলো। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার লোকজন চরমভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ওই শিক্ষকের উপর। বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে নিজের মোবাইল থেকে তার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ডিলিট করে দেয়। পরে সেই মোবাইল স্থানীয় একটি মোবাইল দোকানে নিয়ে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ডিলিট করা ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়। এসময় মুখে মুখে রটে যাওয়া ঘটনার প্রমাণ মিলে যাওয়াতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে হামলা চালিয়ে আরিফসহ তার সহযোগি প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই শুরু করে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাব-১১ এর একটি দল এবং স্থানীয় থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মীর শাহেন শাহ পারভেজ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর রোষানল থেকে ওই দুই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন এবং ফোনে সংরক্ষণ করা ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর ওই কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, আটক শিক্ষক নিজেও তার অপকর্মের কথা তাদের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

এদিকে আটক শিক্ষক আশরাফুল আরিফের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি শুনেছি ওই শিক্ষক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে ছাত্রীর মাকেও ধর্ষণ করেছে।’ তবে, এর সত্যতা নিশ্চিত এখনও হওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার লাটেংগা গ্রামের পরিমল ২০১০ সালে ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালের ২৮ মে পরিমল একই শাখার তার ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে। ওই সময় ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করা হয়। এরপর ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১৭ জুন তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জুলাই ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. সালেহ উদ্দিন পরিমলকে যাবজ্জীবন কারাদ-ে দ-িত করে রায় প্রদান করেন।

অপরদিকে পরিমলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ২০১৩ সালে আবির্ভাব হয় হেলাল উদ্দিন পান্না ওরফে পান্না মাষ্টারের। সে কুষ্টিয়ার বারখাদা আদর্শ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। পান্না মাস্টার তার ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে এবং গোপনে সেসব দৃশ্য ভিডিও করে। পরে ধারণ করা সেসব ভিডিও চিত্র বিভিন্ন পর্ণ সাইটে ছড়িয়ে দেয় সে তার সহযোগি প্রৌকশলী টুটুলের মাধ্যমে। এ ঘটনাটি প্রকাশ পেলে ভুক্তভোগি এক ছাত্রীর ভাই ও এলাকাবাসী ওই বছরের ১৫ জুন পান্না মাস্টারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় পান্না মাস্টারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিচারক পান্না মাস্টারকে ৫ বছর করে কারাদ-াদেশ দেন কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বেগম মাহমুদা খাতুন। একইসঙ্গে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাস কারাদ-াদেশ দেয়া হয়। তবে, মামলায় ৩ আসামিকে বেকসুর খালাস এবং একজন মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৭ জুন, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে