NarayanganjToday

শিরোনাম

কনস্টেবল নিয়োগে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এসপি হারুন!


কনস্টেবল নিয়োগে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এসপি হারুন!

যেমনটি বলেছিলেন ঠিক তেমনটিই করেছেন জেলা পুলিশ সুপার। স্বচ্ছতা আর মেধার সমন্বয়ে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। কোনো রকম বিতর্ক ছাড়াই নিজ যোগত্যায় এবার নারায়ণগঞ্জের কোটায় ৩‘শ ৭০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোনো রকম আর্থিক লেনদেন এবং তদবির ছাড়াই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে, আদিবাসী কোটায় ১ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৪, নারী ৫৫, পুলিশ সদস্যদের সন্তান ৫ এবং সাধারণ পুরুষ ২‘শ ৮৫ জন।

শারীরিক, রিটেন, ভাইবা এবং মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষে ৫‘শ ৭৩ জনের মধ্য থেকে যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে ৩‘শ ৭০ জনের নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে এখন নিয়োগকৃত ৩‘শ ৭০ জন অপেক্ষা করছেন পুলিশ ট্রেনিংয়ের জন্য। সব কিছু প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

এদিকে কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে গত বছর অর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলেও এবার পুলিশ সুপারের দৃঢ়তায় এবং সদিচ্ছায় এবার আর তেমনিট হয়নি। কেননা, পুলিশ সুপার কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, পুলিশ কনস্টেবলে চাকিরর জন্য একটি টাকাও কাউকে খরচ করতে হবে না। তিনি তার সেই কথা রেখেছেন এবং এবারই প্রথম তিনি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

‘পুলিশে চাকরি নিতে কোনো টাকা লাগবে না’ পুলিশ সুপারের এমন ঘোষণা অনেকেই আমলে নেয়নি প্রথম দিকে। কেননা, টাকা ছাড়া চাকরি! তা-ও আবার পুলিশে! সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাসটি উঠে গেছে অনেক আগেই। সবার মাঝেই ধারণা, টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি মিলবে না। কাউকে না কাউকে, কোনো না কোনো দালাল ধরতেই হবে চাকরির জন্য। কিন্তু মানুষের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভাবেই ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ।

‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি পাওয়া এই পুলিশ সুপার টাকা ছাড়াই পুলিশ কনেস্টবল পদে ৩‘শ ৭০ জনকে চাকরি দিয়ে অনন্য নজিরই স্থাপন করেছেন। যা সত্যি অবিশ্বাস্য এবং নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মতোই ঘটনা বলে অভিমত দিয়েছেন অনেকেই।

শুধু তাই নয়, পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো, ইতোপূর্বে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জের জন্য যে কোটা নির্ধারণ করা হতো তা কখনোই পুরণ হতো না। ফলে, এবার পুলিশ সুপার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, কোটার থেকেও যদি বেশি প্রার্থী এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাচাই, বাছাই ও পরীক্ষা শেষে টিকে যায় তাদেরকে পূর্বের কোটা পুরণ না হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তিনি ঠিক তাই করেছেন। নারায়ণগঞ্জের জন্য কনস্টেবল পদে ছিলো ২‘শ জনের কোটা। তার থেকে এবার ১‘শ ৭০ জনকে পূর্বের কোটা অপূর্ণ দেখিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন তিনি। যা বিস্ময়করই বটে।

এদিকে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ কনস্টেবল নিয়োগ প্রসঙ্গে যখন জানিয়েছিলেন, ‘সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল পদে চাকরি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ বিভাগে চাকরি হয়। এ ব্যাপারে কেউ একটি পয়সাও নিতে পারবেন না। কারও তদবিরে কোনো কাজ হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে।’

পুলিশ সুপারের কণ্ঠে এমন কথা শোনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি কথার কথা বলছেন। কিন্তু সেই কথার সঙ্গে কাজের হুবহু মিল রেখে রীতিমতো দৃষ্টান্তই স্থাপন করে জেলাবাসীকে চমকেই দিয়েছেন বাংলার সিংহাম উপাধি পাওয়া এই এসপি হারুন অর রশীদ। তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে, স্বচ্ছতার মধ্য দিয়েই কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৩‘শ ৭০ জনকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২৪ জুন চাকরিপ্রার্থীদের ওই শারীরিক পরক্ষী অনুষ্ঠিত হয় মাসদাইর এলাকার জেলা পুলিশ লাইন্সে। শারীরিক পরীক্ষায় ৫৭৩ জন যোগ্যতা অর্জন করেন রিটেনের জন্য। পর্যায়ক্রমে তারা ভাইবা এবং মেডিক্যাল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ৩‘শ ৭০ জন যোগত্যা অর্জন করেন।

১ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে