NarayanganjToday

শিরোনাম

নিজ এলাকাতেই অসহায় শামীম ওসমান!


নিজ এলাকাতেই অসহায় শামীম ওসমান!

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী পরিবারের মধ্যে প্রথম অবস্থানেই রয়েছে ওসমান পরিবার। এই পরিবারের সন্তান শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সংদস্য তিনি। ইতোপূর্বে একই আসনে আরও দু’ বার তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জজুড়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় শামীম ওসমানকে। এছাড়া দেশের ৩‘শ সংসদ সদস্যের মধ্যে তাকেই প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। মোট কথা, ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য এই শামীম ওসমান। যিনি নিজ নির্বাচনী এলাকাই নয়, অন্য এলাকার অনেক সমস্যাও সমাধান করে থাকেন। আদেশ নির্দেশও দিয়ে থাকেন তিনি। যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই পালন করা হয়ে থাকে।

তবে, অত্যন্ত প্রভাবশালী এই সাংসদ এবার নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন (?) বলে মনে করছেন অনেকেই। আর সেই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। তার পুরো বক্তব্যজুড়েই ফুটে উঠেছিলো তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় কতটা অসহায়! এমনকি তিনি ‘ব্যর্থ’ এবং এসব কারণে তিনি ‘লজ্জিত’ এমনটাও জানিয়েছিলেন সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে।

এদিন তিনি ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্ব জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের পুরো অংশজুড়েই প্রভাবশালী এই সাংসদের অসহায়ত্ব ফুটে উঠে।

‘নিজের নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লায় ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে’ অভিযোগ তুলে সাংসদ শামীম ওসমান সংসদে তার প্রদত্ত বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে শামীম ওসমানের এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে। পত্রিকায় যেটা লেখা হয়েছে সেটা সত্য।’

তিনি বলেছিলেন, ‘আমার এলাকায় প্রায় ৭‘শ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারির অফিসারদের কোয়াটার নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে একটি খেলার মাঠ আছে। মাঠটি সংরক্ষণের অনুরোধ করেছিলাম, সেটি রাখা হয়েছে। খেলার মাঠের জন্য ১২ কাটি টাকা অনুদানও হয়েছে। ‘বিআইডব্লিউটিএ সেখানে যে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছিল সেখানে একটি চাঁদাবাজ গোষ্ঠী চাঁদা আদায় করছে। ওয়াকওয়েটা পুরোপুরি ভেঙে ফেলেছে। সেখানে খলার মাঠের নাম করে শ্রমিকদের কাছ থেকে এক-দুই টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজি করার লোকের অভাব নেই। ওখানে তিন বছর ধরে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যারা টেন্ডার নিয়েছেন সন্ত্রাসীদের জন্য তারা কাজ করতে পারছে না। সেখানে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়।’

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের হাত কতটুকু লম্বা, দাঁত কত শক্ত, তারা এই সাহস পায় কোথা থেকে। সন্ত্রাসীদের এই শক্তির উৎস কোথায়। তারা যত বড় শক্তিশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে জাতীয় সংসদে শামীম ওসমান তার নির্বাচনী এলাকার বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেখানে তিনি একটি গোষ্ঠীকে ‘চাঁদাবাজ’ এবং ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি রেখেছেন! অথচ তিনি এই অঞ্চলের প্রভাবশালী একজন সাংসদ হয়েও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি! এর অর্থ তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই কোণঠাসা? আর এ কারণেই কী তিনি এতটা প্রভাবশালী হয়েও তার উল্লেখ করা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না!

তাহলে কী নাম উল্লেখ করে যাদের কথা তিনি বলতে চাচ্ছেন, সেই তারা সাংসদ শামীম ওসমানের থেকেও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন! এমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পর্যায়ের অনেকেই। পাশাপাশি বলা হচ্ছে, সাংসদ শামীম ওসমান যদি সত্যি সত্যি তাদের কাছে অসহায় হয়ে থাকে, তারা যদি এই সাংসদের থেকেও বেশি প্রভাবশালী হয়ে থাকে, তাহলে শামীম ওসমান এই অঞ্চলে পূর্বের প্রভাব হারাচ্ছেন!

এদিকে সচেতন মহল বলছেন, সংসদে শামীম ওসমান যে বক্তব্য রেখেছিলেন সেটিতে পুরোপুরিই তার অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি পুরোপুরি ভাবেই ব্যর্থ বলেই সংসদে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রেখেছেন। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্য মানেই প্রভাবশালী। কিন্তুতার থেকেও কেউ প্রভাবশালী একজন রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না! এতে করেই বোঝা যাচ্ছে তিনি এখন আর আগের মতো প্রভাবশালী নেই। তার এলাকাতেই তিনি প্রভাব হারিয়েছেন যা পূর্বে ছিলো।

৮ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে