NarayanganjToday

শিরোনাম

‘অস্ত্রবাজিতে’ বাতিল হচ্ছে ডিস বাবু ও নিয়াজুলের ৩ অস্ত্রের লাইসেন্স!


‘অস্ত্রবাজিতে’ বাতিল হচ্ছে ডিস বাবু ও নিয়াজুলের ৩ অস্ত্রের লাইসেন্স!

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬ শর্তাবলী ভঙের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কাউন্সিলর আব্দুল করীম বাবু ওরফে ডিস বাবু এবং নিয়াজুল ইসলামকে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে। ফলে তারা দুজনের কেউ আর নতুন করে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সক্রান্ত একটি চিঠি পেয়ে ওই দুজনের অস্ত্রের উপর তদন্ত শেষ করে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখায় জমাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে আব্দুল করিম বাবু ও নিয়াজুল ইসলামের কাছে অস্ত্র থাকাটা ‘বিপদ জনক’ উল্লেখ করে পুনরায় তাদেরকে অস্ত্রের লাইসেন্স না দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

এরমধ্যে আব্দু করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর উপর তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম এবং নিয়াজুল ইসলামের উপর তদন্ত করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সত্যতা নিশ্চিত করে সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, আমরা নির্দেশনা পেয়ে তদন্ত শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

অপরদিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করলে পরিদর্শক আব্দুল আজিজ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তাকে অস্ত্রের লাইসেন্স ‘না’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু এবং নিয়াজুল ইসলামকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন করা হলে তা জন সাধারণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ বলে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স ও নবায়ন ‘না’ করার জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, ২০১১ সালে একটি শর্টগান ও একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান জেলার আলোচিত কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু। এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম বার শামীম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২২ জানুয়ারি একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান নিয়াজুল। তার অস্ত্রটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত নবায়ন ছিলো। ফলে ২০১৯ সালের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের জন্য তিনি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ফতুল্লা থানা পুলিশ এর তদন্ত করে।

এদিকে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অস্ত্রের লাইসেন্স না পেলে কতটা সমস্যার সম্মুখিন হবেন বা হতে পারেন আব্দুল করিম বাবু তা জানতে তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সেটি গ্রহণ করেননি। ফলে তার পক্ষ হতে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, আব্দুল করিম বাবু এবং নিয়াজুল ইসলাম দুজনই প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি। এরমধ্যে নিয়াজুল ছিলেন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত শহর ও শহরতলীর আলোচিত ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তখন থেকেই তিনি বেপরোয়া অস্ত্রের ব্যবহার করে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষের নিয়াজুল তার অস্ত্র উঁচিয়ে মেয়র আইভীর দিকে তেড়ে যান। যা অবৈধ ব্যবহার বলেই গণ্য করা হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কাউন্সিলরদের মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত ও বিতর্কীত আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর বিরুদ্ধেও বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে গেল ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজ ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে পার্শ্ববর্তী ১৮ নং ওয়ার্ডে গিয়ে অস্ত্রবাজি করেন বাবু। সেদিন তিনি নিতাইগঞ্জের নলুয়া রোডে প্রকাশ্যেই ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে তা-ব সৃষ্টি করেন। যদিও বাবু দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্যই তিনি গুলি ছুড়েছেন তবে, ৬ রাউন্ড নয় তিন রাউন্ড গুলি তিনি ছুড়েছেন বলে স্বীকার করেছিলেন।

১১ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে