NarayanganjToday

শিরোনাম

‘নাটেরগুরু’ এমপির পিএস, রক্ষা করতে গিয়ে ফাঁসলেন কাউন্সিলর!


‘নাটেরগুরু’ এমপির পিএস, রক্ষা করতে গিয়ে ফাঁসলেন কাউন্সিলর!

কাউন্সিলর সাদরিলকে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর বাসিন্দাসহ পুরো ৫ নং ওয়ার্ডজুড়েই চলছে ক্ষোভ। সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের এহেন কা- নিয়ে ঘটনার দুদিন পরও চলছে তীব্র সমালোচনা।

বলা হচ্ছে, কাউন্সিলর এমপিকে বাঁচাতে গেলেন আর তাকেই ফাঁসিয়ে দেওয়া হলো! অথচ তার কোনো দোষই ছিলো না। আর যিনি মামলা দায়ের করেছেন তথা এমপি সেলিনা ইসলামের পিএস হাফেজ আহমেদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হওয়া উচৎ ছিলো। কেননা, তিনিই পুরো ঘটনার ‘নাটেরগুরু’।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, পুরো ঘটনাকেই ওই পিএস সোহেল জটিল করেছেন। গাড়ি থেকে তিনি নেমেই অস্ত্র হাতে চিৎকার আর গালাগালি করতে করতে বাড়িতে প্রবেশ করতে চায়। ‘কোথায় যাবেন’ জানতে চাওয়াতে বাড়ির দারোয়ানকেও সে বেধড়ক পেটান। আবার সেই তিনিই মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়েছেন এবং পুলিশও ঘটনা যাচাই বাছাই না করে যাকে পেয়েছন তাকেই আটক করে নিয়ে গেছেন, এ কেমন আইন?

সূত্র মতে, ওমরপুরে প্রবাসাী কালুর বাড়িতে এসেছিলেন কুমিল্লার সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও তার ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) হাফেজ আহমেদ সোহেল। এই বাড়ির চারতলাতে থাকে সোহেলের চাচাতো বোন ও বোন জামাই হাফেজ আহমেদ। তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ মেটাতে তারা আসেন। কিন্তু এসেই তারা লঙ্কাকা- বাধিয়ে বসেন।

পিএস সোহেলের চিৎকার চেচামেচি এবং দারোয়ানসহ এক শিশুকে মারধরের ঘটনা এবং তার হাতে অস্ত্র থাকাতে আশপাশের লোকজন ধরেই নিয়েছিলেন ডাকাত পড়েছে বাড়িতে। ওই বাড়ির নিচতলার দুই ভাড়াটিয়াও ভয়ে তাদের ফ্ল্যাটের দরজা লাগিয়ে দেন।

কালুর বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাসিনা বেগম। সেদিন তার ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বিনা কারণে। তিনি বললেন, “অস্ত্রসহ চিৎকার করতে করতে তারা যখন আসছিলো আমরা তখন ভয় পেয়ে দরজা আটকে দিই। তাদের সাথে দাড়ি টুপি পরা লোক দেখে প্রথমে মনে করেছিলাম তারা হয়তো জঙ্গি টঙ্গি কিছু হবেন। তখন বাইরেও অনেক লোক জড়ো হয়। এরমধ্যে তাদের মধ্যে যার হাতে অস্ত্র ছিলো তিনি বাড়ির দারোয়ান এবং এখানে দাঁড়ানো এক শিশুকেও মারধর করেন। পরে তারা উপরে চলে যায়। এরপরই উপর থেকে চিৎকার শুরু হয়। মারধরের শব্দও শোনা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকার মানুষ তখন উপরে যেতে চায়। কেউ কেউ আবার যেতে বাধা দেয় জঙ্গি বা ডাকাত হতে পারে ভেবে। তারপরও কিছু মানুষ সাহস করে উপরে উঠে। কিন্তু চিৎকার আর কান্না থামছিলো না। এর কিছুক্ষণ পরই উপর থেকে মহিলাসহ ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তি নেমে আসেন। তখনও তারা চিৎকার করছিলো। বাইরে বের হতে চাইলে লোকজন তাদেরকে বাধা দেয়। এমন সময় লোকজনকে অস্ত্র দেখালে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে যায় এবং তাদের বের হতে বাধা দিলে তারা দুজন দৌঁড়ে এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে আমার ফ্ল্যাটে ঢোকেই দরজা আটকিয়ে দেয়।”

পাশের ফ্ল্যাটের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা বললেন, “এলাকার সব লোক যখন বাড়ির সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করে এবং তাদের গাড়িতে ইট ছুড়ে। এর অনেকক্ষণ পর আসেন কাউন্সিলর সাদরিল। তিনি এসে উত্তেজিত লোকজনকে থামান এবং ঘটনা কি জানার জন্য বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। এরমধ্যে কাউন্সিলরের সাথে থাকা তার পিএস নাজমুল পুলিশে ফোন করে। এবং নিচতলায় অবস্থান নেওয়া ওই মহিলা (এমপি) এবং লোকটার (পিএস) সাথে কথা বলার জন্য কাউন্সিলর ওই রুমে প্রেবশ করে। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ আসে।”

এদিকে এমপির পিএস হাফেজ আহমেদ সোহেলের হাতে মারধরের শিকার কালু মিয়ার বাড়ির দারোয়ান জানান, তারা (এমপি এবং তার পিএস) গেট খুলতে বলেন। কই যাইবেন জানতে চাইলেই ব্যাডাটা গেট ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেলে এবং আমাকে ইচ্ছে মতো মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর কি হইছে তা আমার আর মনে নাই। যখন জ্ঞান ফিরে তখন মাথা আর ঘাড় ফুলে গেছে আর প্রচ- ব্যথা করতেছিলো।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে সাংসদ সেলিনা ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) হাফেজ আহমেদ সোহেলের সাথে। তিনি দারোয়ানকে মারধর, অস্ত্রসহ চিৎকার করে বাড়িতে প্রবেশ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। সোহেলের দাবি, “আমরা বোনের বাসায় যাই। সেখানে বোন জামাইকে বুঝিয়ে নেমে আসি। এরমধ্যে নিচে আসার পরে লোকজন আমাদের উপর হামলা করে।”

হামলা করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওপরে বোন জামাই অযথায় চিৎকার করাতে লোকজন জড়ো হয়। তাই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। পরে আমি গুলশানের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছি।”

এদিকে তার চাচা আব্দুল হাই নিজেই দাবি করেছেন, “তার ভাতিজা সোহেল উপরে উঠার আগে নিচ থেকেই চিৎকার করছিলো। তিনি বাধা দিলেও সে থামেনি। এমনকি উপরে গিয়ে তিনি যখন মেয়ের জামাইকে মারধর করছিলেন তখন এমপি নিজে সোহেলকে থামার জন্য ধমক দেন এবং থামাতে না পেরে দুটি চড় মারেন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সোহেল বলেন, চাচা যদি কথা ঘুরিয়ে ফেলেন তাহলে কি করার আছে।”

তাহলে সাংসদ আপনাকে চড় মারলেন কেন, এমন প্রশ্ন করতেই সোহেল বলেন, “তিনি চড় মেরেছিলেন কিনা মনে নেই। আমার মাথা ঠিক ছিলো না। ওই এলাকার লোকজন মাথায় বাড়ি দেওয়ার কারণে কিছু মনে নেই।” কিন্তু এমপি তো আপনাকে টড় দিয়েছেন উপরে। তখন তো আর লোকজন নিচে ছিলো না। তাহলে কীভাবে তখন এলাকাবাসী আপনার মাথায় আঘাত করলেন, এমন প্রশ্ন করতেই তিনি মিটিং আছে জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন।

২০ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে