NarayanganjToday

শিরোনাম

শেষ রক্ষা হলো না আল জয়নাল ও কাশেম জামালের!


শেষ রক্ষা হলো না আল জয়নাল ও কাশেম জামালের!

একজন শিক্ষা অনুরাগী অন্যজন রাজনীতিক- এই দুজন দুই মেরুর হলেও তাদের মধ্যে চমৎকার মিল রয়েছে একটি স্থানে। আর সেটি হলো তারা দুজনই অবৈধ দখলদার। অবৈধ ভাবে দখল করে বহুতল ভবন স্থাপনে একটুও দ্বিধা করেনি এই দুই জন। তারা একজন হলেন শিক্ষানুরাগি কাশেম জামাল অপরজন আল জয়নাল।

চাষাড়ায় তারা দুজনই গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। একটি বেলী টাওয়ার অন্যটি আল জয়নাল ট্রেড সেন্টার। দুটিই বাণিজ্যিক ভবন। একজন অবৈধ ভাবে রেলওয়ের জমির কিছু অংশ দখল নিয়ে গড়ে তোলা বেলী টাওয়ারে ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন অন্যজন একই পন্থায় তার বহুতল ভবন নির্মাণ করে দোকান ও অফিস ভাড়া দিয়ে পকেট ভরছেন।

এর আগে একবার আল জয়নাল ট্রেড সেন্টার উচ্ছেদে এসেছিলো রাজউক নারায়ণগঞ্জ জোন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা ফিরে যায়। পরে রাজউক কর্তৃপক্ষের সাথে গণমাধ্যম কর্মীরা কথা বলতে গেলে জানানো হয়েছিলো, আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারটি রাজউকের জায়গায় অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এমনকি রাজউকের কাছ থেকে কোনো রকম প্লান পাশও করেনি তারা। তারপরও উচ্ছেদ হয়নি এটি কোনো এক রহস্যজনক কারণে।

অন্যদিকে নিজেকে সর্বত্র শিক্ষানুরাগির ধোঁয়া তুললেও কম যায়নি কাশেম জামালও। যার বিরুদ্ধে বাজেটের পূর্ব মুহূর্তে তামাকজাত পণ্য স্টক করে অধিক মুনাফার অভিযোগ বহু আগের থেকেই। সেই তিনি তার বহুতল ভবন বেলী টাওয়ারটি স্থাপন করতে গিয়ে রেলওয়ের নিজস্ব জমি। তার এই টাওয়ারের পিছনের কিছু অংশ দখল করে রেখেছিলো রেলওয়ের জমি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে তারা দুজন এহেন বিবেক বর্জিত অবৈধ কর্ম করে বীরদর্পে চললেও শেষ রক্ষা আর হয়নি তাদের। শেষত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের জমিতে গড়ে তোলা ওই দুই ভবনের অবৈধ অংশ উচ্ছেদ চালিয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২ টা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। তবে, বেলী টাওয়ারের পিছনের কিছু অংশ উচ্ছেদ শুরু করার পর সেখান থেকে উচ্ছেদকারী দল চলে যায় আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করতে। এরমধ্যে বেলী টাওয়ার কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে একদিনের সময় প্রার্থনা করলে তা মঞ্জুর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল (ঢাকা) এস্টেট অফিসার নজরুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, রেলওয়ের দুই পাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল (ঢাকা) এস্টেট অফিসার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রেলওয়ের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। যারা অবৈধ ভাবে রেলের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছিলো তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সকাল ১০ টার দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এসময় তারা একটি এতিমখানা, বাগান বাড়ি রেস্টুরেন্টসহ বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। পরে রেলওয়ে জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা কাশেম জামালের মালিকানাধিন বেলী টাওয়ার এবং জাতীয় পার্টির নেতা জয়নালের মালিকানাধিন আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের কিছু অংশ উচ্ছেদ করতে যায় উচ্ছেদকারী দল। কিন্তু এসময় দুই ভবনের কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপনের জন্য নানা টালবাহানা শুরু করে। তবে, কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে একদিনের সময় প্রার্থনা করেন তারা। এতে ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম তাদেরকে ১ দিনের সময় দেন।

এদিকে অন্য স্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো সময় না দিয়ে তাদের ক্ষেত্রে সময় দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়দের জোর আপত্তির কারণে বেলী টাওয়ার ও আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের পিছনের কিছু অংশ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে উচ্ছেদকারী দল।

২৯ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে