NarayanganjToday

শিরোনাম

মাদকের ‘শেল্টারদাতা’ শামীম ওসমান অনুসারীরা একডজন নেতা!


মাদকের ‘শেল্টারদাতা’ শামীম ওসমান অনুসারীরা একডজন নেতা!

সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি ১২ নেতার শেল্টারে মাদক ব্যবসা হচ্ছে, এমন  একটি খবরে শহর ও শহরতলী জুড়ে শুরু হয়েছে তোলাপাড়। পুলিশ প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে সেই নেতাদের নাম দেখে।

এদিকে এর একদিন আগে ফেনসিডিলসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কাউন্সিলর দুলাল প্রধান। তিনিও সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এমন সংবাদে তোলপাড়ের পরদ যেন বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।

তবে, পুলিশ বলছে, মাদকের শেল্টারদাতা হিসেবে সংবাদ মাধ্যমে যাদের নাম এসেছে তাদের প্রতি নজর রাখা হবে। খোঁজ নেওয়া হবে তারে সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট পেলে আইনের আওতায় আনা হবে সে যত বড় নেতাই হোক।

প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালালেও মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং টাকা হলেই হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা, মদ, ইয়াবা, হেরাইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এতে করে যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। আবার এসব কারণে অভিভাবক মহলও উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

এছাড়াও বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদক কারবারিদের শেল্টার দেওয়াই নারায়ণগঞ্জে মাদকে সয়লাব। শুধু তাই নয়, শেল্টার দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাই সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে বলে ওই সংবাদে জানানো হয়েছে। ফলে মাদক নির্মূল করাটা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটিতে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক শামীম ওসমান অনুসারি কাউন্সিলর দুলাল প্রধানের কথাও উঠে আসে। এছাড়াও ফেনসিডিলসহ আরেক কাউন্সিলর আরিফুল হাসানের কথাও উঠে আসে সংবাদে। তিনিও শামীম ওসমান অনুসারি। এছাড়াও একই নেতার আরেক অনুসারী মীর হোসেন মীরু রয়েছেন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায়। তাকে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসী নয়, ভিকটিম’ বলে দাবি করেছিলেন।

এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাতে রয়েছে মোফাজ্জল হোসেন চুন্নকে। এই মাদক ব্যবসায়ীকে শাহ নিজাম অনুসারি বলা হয়েছে প্রকাশিত সংবাদটিতে। পাশপাশি ফরিদ আহম্মেদ লিটক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে সংবাদে দাবি করা হয়।

অপরদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে শেল্টার দাতা হিসেবে সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তারা হচ্ছেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, কৃষক লীগ নেতা জিল্লুর রহমান লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, ফতুল্লা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি ও কাউন্সিল মতিউর রহমান মতি এবং কামরুল হাসান মুন্নার, কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদলের নাম উঠে আসে সংবাদে।

এদিকে এই সংবাদটি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আর পুলিশ প্রশাসন এমন সংবাদের সূত্র ধরে মাঠে নেমেছে বলেও সূত্র থেকে জানা গেছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়েলেও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজামকে পাওয়া যায়নি।

তবে একই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিলো মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালের কাছে। তিনি বলেন, ‘যিনি সংবাদটি ছাপিয়েছে তিনি সম্ভবত নামে ভুল করেছেন। এবং পদ পদবীবও বুঝেন না। নামে মিল থাকাতে পদবীসহ ভুল করে আমার নামটা দিয়ে দিয়েছেন। আমার ধারণা উনি রাজনীতিও বুঝেন না, সাংবাদিকতা বুঝেন কিনা সন্দেহ।’

অপরদিকে একই প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘মাদকের সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই, মাদক ব্যবসায়ীর সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে তা যদি তিনি প্রমাণ করতে পারেন তবে, যে শাস্তি আমাকে দেওয়া হবে তা মাথা পেতে নেব।’

কৃষকলীগের জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান লিটন বলেছেন, ‘ত্রিশ বছর ধরে রাজনীতি করছি, মাদকের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি। শুধু তাই নয়, কেউ যদি এর প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। পাশাপাশি এমন কথা যারা বলে তাদের ডোপ টেস্ট করা হোক এবং আমার করা হোক। তখন বোঝা যাবে মাদকের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি মাদকের সাথে নেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘আমি বরাবরই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কেউ যদি এর সাথে আমার সম্পৃক্ততা পায় তাহলে যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। এমন তথ্য ভিত্তিহীন এবং আমাকে হেয় করার জন্য। আমি প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

অন্যদিকে ফতুল্লা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সাথে আমি জড়িত নই। মাদেকর বিরুদ্ধে আমাদের নেতা শামীম ওসমান জিহাদ ঘোষণা করেছেন। আমরাও মাদকের বিরুদ্ধে এবং নিজ অবস্থান থেকে মাদক নির্মূলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরপরও কেউ যদি বলে আমি মাদকের শেল্টারদা তাহলে সেটা ইর্ষান্বিত হয়ে বলছেন।’

এদিকে এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) ডিআইও-টু সাজ্জাদ রুমন জানান, ‘পুলিশ মাদকের সাথে আপস করে নাই। করবেও না। আমাদের পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশ রয়েছে, অপরাধী যে হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

৩ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে