NarayanganjToday

শিরোনাম

এসপিকে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি দেওয়া সেই ব্যক্তি বসিয়েছে অবৈধ হাট!


এসপিকে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি দেওয়া সেই ব্যক্তি বসিয়েছে অবৈধ হাট!

সিটি করপোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসন, কোনো দফতর থেকেই নেওয়া হয়নি অনুমতি। তারপরও শহরের প্রাণকান্দ্র চাষাড়া থেকে মাত্র কয়েকগজের মধ্যে বসানো হয়েছে কোরবানির অবৈধ হাট। আর এই অবৈধ হাটটি বসিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধি দিয়ে সাটানো ব্যানারের নেপথ্য ব্যক্তি ইমরুল কায়েস। তিনি রাইফেল ক্লাবের শুটিং সম্পাদক।

এদিকে সপ্তাহ ধরে এই অবৈধ হাট চললেও এখনও পর্যন্ত সিটি করপোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আর এ নিয়ে এখন চলছে নানা জল্পনা কল্পনা এবং সমালোচনা।

এদিকে ওই অবৈধ হাট নিয়ে নগরীর সবার একটাই প্রশ্ন, সিটি করপোরেশনের এড়িয়াতে কীভাবে একটি অবৈধ হাট বসে, জেলা প্রশাসন থেকেও কেন এই হাটটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? এর নেপথ্যে ভিন্ন কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

যদিও এই অবৈধ হাট বসানোর নেপথ্য ব্যক্তি রাইফেল ক্লাবের শুটিং সম্পাদক ইমরুল কায়েস নারায়ণগঞ্জ টুডে’র কাছে দাবি করেছিলেন, ‘তিনি জেলা প্রশাসন থেকে হাটের অনুমোদন নিয়েছেন।’ কিন্তু এর স্বপক্ষে অনুমোদনপত্র দেখানোর কথা থাকলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি।

এদিকে এই হাটটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়াতে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ। কেননা, হাটটির পাশেই বেশ কয়েকটি বাস সার্ভিসের মূল কাউন্টার। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস ছাড়া হচ্ছে। হাটের জন্য মানুষের এই ভোগান্তির কথা নারায়ণগঞ্জ ট্রাফক পুলিশের কর্তা ব্যক্তিও গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, কোরবানির ওই অবৈধ হাটটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাড়ার প্রবেশ মুখ থেকে কয়েকগজ দূরত্বে বসানো হয়েছে। যার ফলে প্রতি মুহূর্তেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ভোগান্তি। এমনকি হাটটি পুরোপুরি জমে উঠলে ভোগান্তি সীমা ছাড়াবে।

এই হাটটি উচ্ছেদ না হলে ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হবেন বলে গণমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সেলিম রেজা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাটটি জেলা প্রশান থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে, ইমরুল কায়েস নামে এক ব্যক্তি হাটটির ইজারার জন্য আবেদন করেছেন বুধবার। আবেদনের প্রেক্ষিতে সদর ইউএনও, ট্রাফিক বিভাগের কাছে হাট সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। তাদের আপত্তি না থাকলে ইজারা দেওয়া হবে। তখন সর্বোচ্চ দরদাতাই পাবেন হাটের ইজারা।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামূল হক জানিয়েছেন, এমন কোনো হাট আমরা ইজারা দিইনি। হাটের অনুমতি চেয়ে কেউ আবেদনও করেনি। আমরা কোনো কাগজও পাইনি। জেলা প্রশাসন সম্মতি দিলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো।

৭ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে