NarayanganjToday

শিরোনাম

এ যেন মগের মুল্লুক : চাষাড়ায় এখনও চলছে পশুর অবৈধ হাট


এ যেন মগের মুল্লুক : চাষাড়ায় এখনও চলছে পশুর অবৈধ হাট

এখন দিব্যি চলছে চাষাড়ায় বসানো কোরবানির পশুর অবৈধ হাট। সপ্তাহ পেরোলেও না সিটি করপোরেশন, না জেলা প্রশাসন, কোনো দপ্তরই অবৈধ এই হাটটির বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে এ নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ ভাবে হাট যিনি বসিয়েছেন তিনি কী প্রশাসনের থেকেও বেশি ক্ষমতাধর?

এদিকে জানা গেছে, অবৈধ ওই হাটটি উচ্ছেদ তো দূরের কথা বর্তমানের এই হাটের পরিধি আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে পশুর সংখ্যা। তবে, এই হাট নিয়ে সিটি করপোরেশন আর জেলা প্রশাসন একে অপরকেই দোষ দিয়ে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া চত্বর থেকে মাত্র আড়াইশো গজ দূরত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশের এই হাটের কারনে যানজট সৃষ্টির শঙ্কা করছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ আহাম্মেদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায় বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার হাটের আয়তন বেড়েছে।  আর্মি মর্কেটের ভেতরের খোলা যায়গা ও কাঁচা বাজার পেরিয়ে লিংক রোডের পাশে তৈরি করা হাটের তোরণ পর্যন্ত পৌঁছেছে গরুর সারি। হাটের প্রচারে ব্যবহৃত মাইক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে আশাপাশের এলাকাগুলোতে। উচ্চ শব্দে চলছে হাটের প্রচারণা।

হাটে গরু নিয়ে আসা একজন ব্যাপারী জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নতুন করে অন্তত ২ শতাধিক গরু এসেছে। শুক্রবার পর্যন্ত গরুর পরিমান আরো বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার থেকে গরু এবং ক্রেতা দুটোই বাড়বে। তখন রাস্তা পর্যন্ত হাট চলে আসবে।’

নাম না প্রকাশের শর্তে হাটের প্রবেশ মুখে থাকা একটি পরিবহনের টিকেট বিক্রেতা বলেন, ‘হাটের লোক পরিচয়ে আমাদের বলা হয়েছে কোনো গাড়ি যেন কাউন্টারের সামনে না দাঁড়ায়। কাউন্টারের সামনে থেকে যাত্রী না উঠানোর জন্যও বলেছেন তারা।’

পেশায় জ্বালানি গবেষক নগরের উত্তর চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমন কবির বলেন, ‘অসংখ্য মাইকের মাধ্যমে দিনরাত হাটের প্রচারণা চলছে। উচ্চ শব্দের কারনে পরিবারসহ আমরা একদিন আগেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ মূল শহরে কেমন করে গরুর হাট বসে এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

জানতে চাইলে নারয়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সেলিম রেজা বৃহম্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় বলেন, ‘হাটের বৈধতার জন্য কাজী ইমরুল কায়েস নামের এক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। এবিষয়ে সিটি করপোরেশন আমাদের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছিল। পুলিশের মতামত জানতে চাইলে তারা বলেছেন, অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করে তারা (ট্রাফিক পুলিশ) যানজট নিয়ন্ত্রণ করবেন। সে প্রেক্ষিতেই আমরা সিটি করপোরেশনকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবো। এখন সিটি করপোরেশন চাইলেই হাটের ইজারার ব্যবস্থা করতে পারে।’

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ আহাম্মেদ বলেন, ‘হাটের কারনে যানজট হবে না কিংবা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানজট নিরসন করা হবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি জানি না। এমনকি হাট বিষয়ে কেউ আমার কোনো সিদ্ধান্ত জানতেও চায়নি ।’ এসময় হাটের কারনে যানজট তৈরি হওয়ার শঙ্কার কথা জানান তিনি।

হাটের বৈধতা দেয়া হয়নি জানিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন চাইলেই হাটটি উচ্ছেদ করতে পারে। আমরা তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করবো।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এহতেশামুল হক বলেন, ‘হাটের অনুমতি পেলে আমাদের রাজস্ব আদায় হবে। আমরা চাই হাটের অনুমতি দেয়া হোক। কিন্তু এখনো পর্যন্ত  (বৃহম্পতিবার রাত ৮ টা) অনুমতি পাইনি। অনুমতি না দিলে জেলা প্রশাসক হাট উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবেন। আমরা তাদের সঙ্গে থাকবো।’

অবৈধ হাট উচ্ছেদ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সু শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় মূল শহরে একটি অবৈধ হাট সপ্তাহ ব্যাপি চলছে, অথচ কেউ উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এমনটি হলে জেলার কোন পশুর হাটেরই ইজারা বা অনুমোদনের প্রয়োজন ছিলো না। সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসক হাট উচ্ছেদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করছি।’

হাটের বৈধতার আবেদনকারী কাজী ইমরুল কায়েস নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের শুটিং সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছাড়াও রাইফেল ক্লাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এবং তার সহযোগি কয়েকজন ব্যবসায়িক নেতা হাটটি বসিয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছিলেন কয়েকজন দোকান মালিক।

৯ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে