NarayanganjToday

শিরোনাম

প্রশাসনের উদাসীনতায় সদরের ১৬ হাটেই চলেছে অতিরিক্ত হাসিল আদায়


প্রশাসনের উদাসীনতায় সদরের ১৬ হাটেই চলেছে অতিরিক্ত হাসিল আদায়

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এড়িয়াতে ২১টি পশুর অস্থায়ী হাট এবং সদর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত অস্থায় পশুর হাট রয়েছে ১৬টি। এসব হাটগুলোর মধ্যে সিটির অন্তর্ভূক্ত হাটের হাসিল নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ না উঠলেও সদর উপজেলার হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ছিলো তীব্র ক্ষোভ।

সূত্র বলছে, সদর উপজেলা প্রশাসনের তদারকির অভাবে এখানকার প্রায় সব ক’টি হাটেই সরকার নির্ধারিত হাসিলের চেয়েও অধিক হাসিল আদায় করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সাথে হাট ইজারাদারদের মধ্যেও হয়েছে বাগবিত-া।

বিভিন্ন ক্রেতার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, এবার প্রতিটি হাটের জন্য শতকরা ৫টা হাসিল আদায়ের নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের হাটগুলোতে এই নিয়মের তেমন একটা ব্যাত্যয় ঘটেনি। কিন্তু সদর উপজেলার হাটগুলোতে একরকম জোর করে সরকার নির্ধারিত হাসিল থেকেও শতকরা ১ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।

অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রথম অভিযোগটি আসে যুবলীগ ক্যাডার জানে আলম বিপ্লবের হাট থেকে। এই হাটটিতে শতকরা ৬ টাকা করে হাসিলের সাইনবোর্ড টানিয়েই আদায় করা হচ্ছিলো। যদিও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সেটি নামিয়ে শতকরা ৫ টাকা হাসিল লিখে ইজারাদাররা। তবে, কারো অভিযোগ এরপরও তারা ৬ শতাংশ হাসিল আদায় করেছেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরের আলীগঞ্জে হাটে প্রকাশ্যেই সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ১ শতাংশ বেশি হাসিল আদায় করা হয়েছে। এই হাসিল তারা জোর করেই ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনেরও এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। আর অতিরিক্ত হাসিল আদায় নিয়ে ক্রেতাদের সাথে বিবাদেও জড়িয়েছেন ইজারাদারদের লোকজন।

ক্রেতাদের দাবি, এমন ঘটনা প্রকাশ্যে হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যার কারণে ইজারাদাররা ছিলো বেপরোয়া। যাচ্ছেতাই হাসিল আদায় করেছে তারা।

অপরদিকে একই রকম অভিযোগ উঠেছে উপজেলার সৈয়দপুর কয়লার ঘাট এলাকার হাট নিয়ে। এই হাটের ইজারাদার নাজির আহমেদ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, নাজির আহমেদের এই হাটটিতে জোর করেই ৫ শতাংশ হাসিলের পরিবর্তিতে ৬ শতাংশ করে আদায় করা হয়। এমন জোর জবরদস্তি প্রকাশ্যে চললেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হয়রানির শিকার ক্রেতারা।

শুধু এ দুটি হাটই নয়, সদর উপজেলার প্রায় সব কটি হাটের চিত্রই ছিলো একই রকম। যা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন। এই আইনে হাট ইজারাদারদের জরিমানা হওয়ার কথা থাকলেও ক্রেতারা অনেকটা অসহায় ভাবেই অতিরিক্ত হাসিল দিয়ে গরু নিয়ে ফিরেছেন বাসায়। সেই সাথে তারা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ি করেছেন। সেই সাথে তারা বলছেন, প্রশাসন এসব দেখেও দেখেনি। তাদের আস্কারাতেই এমনটি হয়েছে।

১১ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে