NarayanganjToday

শিরোনাম

মুক্তিযোদ্ধার আশ্রয়তলে ‘রাজাকারপুত্র’ বিতর্কের শেষ কোথায়?


মুক্তিযোদ্ধার আশ্রয়তলে ‘রাজাকারপুত্র’ বিতর্কের শেষ কোথায়?

সাংসদ সেলিম ওসমান প্রকৃত একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা, এতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের একদমই সহ্য করতে পারেন না। তা সাংসদের নানা কর্মকা-েই ইতোপূর্বে প্রতীয়মান হয়েছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, সাংসদ সেলিম ওসমানের মতো একজন দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধার পাশে একজন রাজাকারপুত্র সার্বক্ষণিক থাকেন কীভাবে? এ নিয়ে নানা সময়েই নানা কথা উঠে। বলা হয়ে থাকে তার সাথে বা তাদের সাথে থাকলে রাজাকারপুত্র বা জাতির জনকের খুনীর ভাইও শুদ্ধ, সহী হয়ে যান, আদতে কী তাই?

আবার যাকে রাজাকারপুত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তিনি আদতে কী রাজাকারপুত্র! তারা বাবা কী সত্যিই শান্তি কমিটির চাষাড়া ইউনিট কমান্ড ছিলেন? যদিও এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে কোনো তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে, এ নিয়ে লেখক মুনতাসীর মামুন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কীত ডকুমেন্টারি বই ‘শান্তিকমিটি ১৯৭১’ এর ৫ম পর্বে নারায়ণগঞ্জের যে ১৪ জন শান্তিকমিটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের নাম তালিকা প্রকাশ করেছেন সে তালিকার ৫ম স্থানেই রয়েছেন চাষাড়ার গোলাম রাব্বানী খানের নাম।

মুনতাসীর মামুন গোলাম রাব্বানী খানকে চাষাড়া ইউসি হিসেবে উল্লেখ করেন। আর এই গোলাম রাব্বানী খানের পুত্র নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হয়দার খান কাজল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে সমালোচনা।

মুনতাসীর মামুনের উল্লেখিত শান্তিকমিটির নারায়ণগঞ্জের তালিকাকে উপজিব্য করে প্রায় সময় গণমাধ্যমে তৈরি হয়েছে প্রতিবেদন। তবে, এ নিয়ে কখনোই জোড়ালো কোনো প্রতিবাদ বা মুনতাসীর মামুনের দেওয়া তালিকা ভুল, মিথ্যা এমন দাবি তুলে আইনের আশ্রয়ও নেননি খালেদ হায়দার খান কাজল। ফলে, ব্যাপারটি সত্য কি মিথ্যা, এ নিয়ে দোল্যমান সাধারণ মানুষসহ এ প্রজন্ম।

কারো কারো মতে, সাংসদ সেলিম ওসমান আর যা-ই হোক, তিনি কখনো স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তিদের বংশধর নিয়ে চলবেন না, এমন বিশ্বাসও করেন। কিন্তু এই শান্তিকমিটির তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তার একটি সুরাহ হওয়া দরকার বলেই মনে করছেন নতুন প্রজন্মসহ সচেতন মহল।

সম্প্রতি জাতির জনকের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছিলেন, ‘আজকে আপনাদের সামনে দু’জন অতিথি নিয়ে আসছি। একজন হলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল। ওনার কোনো দল নাই। ওনার কোনো জাত নাই। উনি সবার সাথে আছেন। মানুষের উপকার করতে ভালোবাসেন। ওনার বাবার সাথে উনি জীবনের যতটা সময় কাটিয়েছেন তার চেয়ে বেশি জীবন কাটিয়েছেন আমার সাথে। আর মুক্তিযোদ্ধা বলতেই উনি অন্ধ।’

সাংসদের অমন বক্তব্যের পর চাষাড়া ইউনিট কমান্ড গোলাম রাব্বানী খানকে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। কথা উঠেছে তার পুত্র খালেদ হায়দার খান কাজলকে নিয়ে। বলা হচ্ছে, একজন রাজাকারপুত্র কীভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রিয় লোক হন, কীভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা বলতে অন্ধ হন?

সাংসদের ওই বক্তব্যের রেশ টেনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির গণমাধ্যমে বলেছেন, “শান্তিকমিটির নেতার ছেলে যদি মুক্তিযোদ্ধা বলতেই অন্ধ হন তাহলে এটি খুবই ভাববার বিষয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো মন্দ বুঝতে যদি শান্তিকমিটির নেতার ছেলের উপর দায়িত্ব দেয়া হয় এটি দুর্ভাগ্য ছাড়া অন্য কিছু নয়। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। সাংসদের এসব বিষয় অজনা থাকাবার কথা নয়।’

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখক মুনতাসীর মামুন এর ‘শান্তিকমিটি ১৯৭১’ নামক বইয়ের ২২৫নং পৃষ্ঠায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের বাবা গোলাম রব্বানী খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে তিনি শান্তিকমিটির চাষাড়া ইউনিট কমান্ড ছিলেন। তার ছেলে যদি মুক্তিযোদ্ধা বলতেই অন্ধ হন তবে কি আর বলার। নিন্দা জানানোর ভাষাও নেই। আসলে আমাদের এমপিই অন্ধ হয়ে গিয়েছেন।’

তবে, এ প্রসঙ্গে কী সত্য আর কী মিথ্যা তা জানার জন্য নারায়ণগঞ্জ টুডে’র পক্ষ থেকে গোলাম রাব্বানী খানের ছেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধাকালিন সময়ে নারায়ণগঞ্জে যুদ্ধ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বক্তব্য নিন, তারা যে বক্তব্য দিবেন সেটিই সঠিক। এ নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী নারায়ণগঞ্জ টুডে’ক বলেন, ‘কে কি ছিলো সে বিতর্কে যাবো না। কিন্তু কাজল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যতো অনেক কিছু করছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের পিছনে তার কতটা অবদান ছিলো সে আমরা জানি। সে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, সেলিম ওসমান শামিম ওসমানের সাথে সে আছে বলে শত্রুতা করে এসব বিতর্ক ছড়ানো হচ্ছে।’

১৮ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে