NarayanganjToday

শিরোনাম

বন্দুকযুদ্ধে মরেছে অনেক হত্যার শিকারও কম নয়, তবুও থামছে না মাদক ব্যবসা


বন্দুকযুদ্ধে মরেছে অনেক হত্যার শিকারও কম নয়, তবুও থামছে না মাদক ব্যবসা

মাদকের ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স চলললেও থেমে নেই নেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসা। কৌশল পরিবর্তন করে নানা ভাবেই বিক্রি হচ্ছে নানা ধরণের মাদক। তবে, বহনে সহজলভ্য হওয়াতে ইয়াবার প্রসার সর্বত্র একটু বেশি।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী নিয়মিতই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ধরা পড়ছে খুচরো বিক্রেতা অনেকেই। তবে, ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদকের ডিলার ও তাদের শেল্টারদাতারা। ফলে অপ্রতিরুদ্ধ এখনও অনেক কারবারি।

এদিকে মাদকের আধিপত্য নিয়ে এ যাবৎ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে জেলার বিভিন্ন থানা অঞ্চলে। এছাড়া কয়েকজন মাদক কারবারি ইতোমধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারাও গেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক শাহিন, রবিউল হাসান, বিপ্লব হোসেন, ফরিদ ওরফে ফেন্সি ফরিদ, দেলোয়ার হোসেন দেলু ওরফে মাস্টার দেলু, কিলার মোক্তার ও তার সহযোগী মানিক, রাসেল মাহমুদ, বোমা লিপু, আলমগীর হোসেন ওরফে বিয়ার আলমগীর, আলী নূর, সেলিম ওরফে ফেন্সি সেলিম, নাদিম, বাচ্চু খান, রাজমহল রিকন উল্লেখযোগ্য। গত দুই বছরে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তারা নিহত হন।

তবে, এদের মধ্যে দুই তিনজন নারায়ণগঞ্জের বাইরের বাসিন্দা। ঘটনাচক্রে সিদ্ধিরগঞ্জ, আড়াইহাজার এবং রূপগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে তারা নিহত হন। তাছাড়া বন্দরের রাসেল মাহমুদ কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ছাড়াও মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রতিপক্ষের আক্রমনে খুনের শিকার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, পাইকপাড়ায় সন্ত্রাসী চোক্কা সুমন, দেওভোগ বাংলাবাজার এলাকায় রিপন হত্যা, দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকায় শিপলু বেপারি, দেওভোগ মাদরাসা রোডে রকিবুল হাসান রকি, বাবুরাইল তাঁতীপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসী মেজর পারভেজ, কাশিপুরের হোসাইনী নগর এলাকায় মিল্টন হোসাইন ও পারভেজ আহম্মেদ, ফতুল্লায় আনোয়ার ইসলাম বাবু ওরফে জামাই বাবু, রূপগঞ্জের বিউটি আক্তার কুট্টি, ফতুল্লার পাগলা কুতুবপুরের জুম্মন, গোদনাইলের নীরব হোসেন, পাগলা কুতুবপুরের কিলার মনির, আলী হোসেন, নিশ্চিতাপুরে বিল্লাল, নাজমুল, তোফাজ্জল, সাডি বাবুলসহ আর বেশ কিছু হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে গত ৫ বছরে।

এত খুনখারাবির পরও মাদক ব্যবসা থেমে নেই। বরং প্রতিনিয়তই এই ব্যবসার সাথে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার অভিলাষ নিয়েই মাদকের কারবারের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার মাদক সেবনের টাকার যোগান দিতে মাদক ব্যবসায়ীদের সেলসম্যান কিংবা নিজেরাই ছোট্ট পরিসরে মাদকের কারবার করছেন। প্রায় সময় অভিযোগ উঠে, রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি কতিপয় অসাধু কিছু পুলিশ সদস্যরাও এসব বিক্রেতাদের শেল্টার দিয়ে থাকে মাসোহারার মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, শহর ও শহরতলীতে অন্তত বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে কয়েক ডজন। এরা নিজ বাহিনীর মাধ্যমে খুচরা মাদক ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি মাদকের বড় বড় চালান হাত বদল করছে। এদের মধ্যে অন্যতম, শহরের মাদক সম্রাট তবলা রিপন, সালাউদ্দিন বিটু, ইব্রাহীম, রাহাত, হাজী রিপন, ফতুল্লার ফরহাদ খাঁ, মীর হোসেন মীরুর নেতৃত্বে তার বাহিনী, ফতুল্লায় ক্রসফায়ারে নিহত ‘নরঘাতক’ রেকমতের সহযোহি মোফাজ্জাল হোসেন চুন্ন, রফেদ, মিঠুন, জামাই আসলাম, ডাকাত রনি, নাইট পারভীন, রুহুল আমিন কাকন, আপেল, সিদ্ধিরগঞ্জের টুন্ডা সেলিম ও শাহজাহান সরকার সাজু প্রমূখ।

সূত্র জানায়, বর্তমানে শহরের সব থেকে বড় মাদকের ডিলার সালাউদ্দিন বিটু। একাধিক মামলার এই দুর্ধর্ষ কারবারি পুলিশ পিটিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি ঈদ উদযাপনের জন্য সে শহরের শীতলক্ষ্যা এলাকায় ফিরে আসে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাকে ঈদে নিজ এলাকায় দেখা গেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, সালাউদ্দিন বিটু মাদক খুচরা নয় পাইকারি ভাবে হাত বদল হয়ে থাকে। তার হয়ে এই মাদক হাত বদল করে থাকে অমি হাসান নামে এক যুবক। তার সাথে রয়ে আরও বেশ কয়েকজন। ভোরের আলো ফোটার কিছু সময় আগে এই চক্রটি মাদকের চালান তুলে দেয় খুচরা বিক্রেতাদের হাতে।

অন্যদিকে ইব্রাহীম ও রাহাত নামে দুই যুবক হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ মাদকের ডিলার। বিদেশী বিয়ার, মদের চালান এনে থাকে তারা। নগরীর আমলাপাড়া থেকে ইতোপূর্বে এই গ্রুপের বেশ সংখ্যক বিয়ার আটক করেছিলো পুলিশ। এছাড়াও জামতলা এলাকা থেকে মাদকসহ ইব্রাহিমকে আটক করেছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। তাদেরকে অভিজাত মাদক ব্যবসায়ী বলা হয়ে থাকে। এদেরকে অনেকেই চোখে দেখে না। কোথায় তারা থাকে সেও অনেকে জানে না। তবে, নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় যেসব বিয়ার ও মদ পাওয়া যায় তা এদের হাত ঘুরেই যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে কুতুবপুর এলাকার মাদকের বিশা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মীর হোসেন মীরুর বাহিনী। এই বাহিনীর হাতে ইতোপূর্বে বেশ কজন মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হত্যার শিকারও হয়েছিলো। এই বাহিনী শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, নানা ধরণের সন্ত্রাসী চাঁদাবাজির মতো ঘটনাও সংঘটিত করে চলেছে। বাহিনীর প্রধান মীর হোসেন মীরু ফতুল্লা মডেল থানায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ দশ সন্ত্রাসীর মধ্যে ১০ নম্বরে রয়েছে।

অপরদিকে ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকার মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাফেদ আলীদের রয়েছে বিশাল একটি মাদকে সিন্ডিকেট। কমপক্ষে ২০ মামলার আসামী চুন্নু এই মাদক সিন্ডিকেটর মূলহোতা। একাধিকবার মাদক ও অস্ত্রসহ সে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলো। তার বিরুদ্ধে শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, রয়েছে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগও।

১৯ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে