NarayanganjToday

শিরোনাম

১৯ টি জিডি-মামলা হলেও ধরছে না পুলিশ, কে এই খোকন?


১৯ টি জিডি-মামলা হলেও ধরছে না পুলিশ, কে এই খোকন?

একটি নয়, দুটি নয় গুণে গুণে ১৯ টি জিডি সাথে একটি মামলা তারপরও সরকারি দলের নেতা পরিচয়ে এখনও বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি, চালাচ্ছেন ব্যাপক তা-ব। সর্বশেষ তিনি সন্ত্রাসী তা-ব চালান ৬ সেপ্টেম্বর। এদিন এসব ঘটনায় ভুক্তভোগিরা পৃথক পাঁচটি জিডির আবেদনও করেছেন ফতুল্লা মডেল থানায়।

এত কিছুর পরও ভয়ঙ্কর রূপী এমওএফ খোকন অপ্রতিরুদ্ধ। পুলিশ তার টিকিটিও স্পর্শ করতে পারছে না। আর এ সুযোগে ভয়ঙ্কর এই ব্যক্তিটি দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন ফতুল্লার কুতুবপুরের শাহী বাজার এলাকা। তার ভয়ে তটস্থ এ এলাকার বাসিন্দারা।

সূত্র জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে শাহী বাজার এলাকায় নিজস্ব বাহিনী নিয়ে ব্যাপক তা-ব চালায় কুতুবপুরের শাহী বাজার এলাকায়। এসব ঘটনায়, রনি, মো. মুজাফ্ফর হোসেন, হাবিবুর রহমান তপন, সজল ও সোহাগ এমওএফ খোকনকে প্রধান করে পৃথক ৫টি অভিযোগ দায়ের করেন ফতুল্লা মডেল থানায়।

স্থানীয়রা জানান, এমওএফ খোকন নিজেকে শামীম ওসমান অনুসারি যুবলীগ নেতা দাবি করেন। পাশাপাশি তার এক ভাই পুলিশ পরিদর্শক ওমর ফারুক এবং তার দাবি তার পিতা জালাল ড্রাইভার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি চালক। এসব প্রভাবেই তিনি শাহী বাজার এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক অপকর্ম চালিয়েই যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের দায়ে অভিযোগের পাহাড় থাকলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে, এমওএফ খোকনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১১ সহ বিভিন্ন দপ্তরেও একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ইতোপূর্বে। এমনকি সম্প্রতি দুইটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে এমওএফ খোকনের বাড়িতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ওসি তদন্ত উপস্থিত হলে তার সামনেই বাদী পক্ষকে পেটান তিনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মামুনুর রশিদ নামে এক সাংবাদিক ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেন।

সূত্রে আরও জানা যায়, এমওএফ খোকনের নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর দ্বারা শাহী বাজার এলাকায় কেউ নিগৃহিত হয়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বর্তমানে তার যন্ত্রণা এতটাই মাত্রা ছাড়িয়েছে যে এলাকাবাসীর পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে আরও জানা গেছে, এমওএফ খোকনের বিরুদ্ধে রোকসানা নামে এক নারী চলতি বছরের ৪ এপ্রিল একটি মামলাও দায়ের করেছেন ফতুল্লা মডেল থানায়।

সূত্র বলছে, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে এমওএফ খোকনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ জানিয়ে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগি মহল ফতুল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও সেগুলোকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যার সংখ্যা বর্তমানে ১৯ টি। ভুক্তভোগি এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আর কতগুলো জিডি, অভিযোগ দায়ের হলে এমওএফ খোকনের বিরুদ্ধে প্রশান ব্যবস্থা নিবে?

এদিকে এমওএফ খোকন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এসব কিছুই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি নিজেও জানেন না তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কিনা।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা হাজী জালাল প্রধানমন্ত্রীর রার্নিং গাড়ি চালক। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গাড়ি চালক। আমার এক ভাই পুলিশের পরিদর্শক। আমি প্রিমিয়ার ব্যাঙ্ক টানবাজার শাখায় চাকরি করি। কখনো আমরা এলাকায় কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি। তারপরও তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। পঞ্চায়েত কমিটি গঠনের পর থেকেই তার হয়তো অসুবিধায় পড়েছেন তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন।

এমওএফ খোকন আরও বলেন, আমার বাবা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি চালক। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোক। সে হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। আর এটাই অনেকের গাত্রদাহ যার কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।

এদিকে কুতুবপুর ইউনিয়ণ যুবলীগের সভাপতি মো. মুজাফ্ফর হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র নয়। সে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে এসব করছে।

তিনি আরও বলেন, এমওএফ খোকন যখন তখন মানুষকে মারধর করেন। সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর শামীম ওসমানের সমাবেশে তার সাথে যাওয়ার জন্য লোকজনকে হুমকি ধমকি দিচ্ছিলো এবং মারধরও করেছেন অনেকেকে। আমি এলাকায় এসে খবর জানতে পারি। বাসা গেলে আমি আরও জানতে পারি, সে আমার বাসায় গিয়েও হুমকি ধামকি দিয়েছে। পরে এ ঘটনায় আমি ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেছি।

অপর এক ভুক্তভোগি হাবিবুর রহমান তপন বলেন, প্রায় সময় এমওএফ খোকন এলাকায় তা-ব চালাচ্ছেন। সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর আমার দোকানে যেয়ে মারধর করে। তখন আমি কোরআন পড়ছিলাম। এ ঘটনায় আমি ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করি।

আরও এক ভুক্ত সজল বলেন, সমাবেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ আমার দোকানের সামনে মারপিট করছিলেন। এসময় হঠাৎ করে এমওএফ খোকন ও তার লোকজন প্রবেশ করে আমাকে মারধর শুরু করে। আমার বাবা চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি জিডি করেছি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, এমওএফ খোকনের পিতা হাজী জালাল এক সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি চালালেও বর্তমানে তিনি সে পদে নেই। রিটায়ের্ট করেছেন অনেক আগেই। তবে, বর্তমানে তিনি বেতন ভাতা পাচ্ছেন।

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে