NarayanganjToday

শিরোনাম

সৃজনের প্রতারণায় স্বামীর পর স্ত্রী জেল হাজতে, তোলপাড়


সৃজনের প্রতারণায় স্বামীর পর স্ত্রী জেল হাজতে, তোলপাড়

সৃজন হাউজিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী শামীম তারেক। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। কম মূল্যে প্লট দেওয়ার কথা বলে নীরিহ সাধারণ মানুষের সাথে তিনি ও তার প্রতিষ্ঠানের অন্যান্যরা বহু আগের থেকেই প্রতারণা করে আছিলেন। এমন প্রতারণার অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেছিলো।

এবার একই ধরণের প্রতারণায় জেলহাজতে গিয়েছে তার স্ত্রী শিউলি তারেক। তিনি এই সৃজন হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। একই সাথে প্রতারণার অভিযোগে জেলহাজতে রয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার আফরিন আক্তার।

৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালত প্রতারণার একটি মামলায় তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। শহরের চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকার লূৎফর রহমান খানের ছেলে নান্নু খান এই মামলাটি করেন। মামলায় আরও আসামী করা হয়েছে সৃজন হাউজিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী শামীম তারেক ও ডিরেক্টর আবুল হোসেন নাঈম। তারা দুজন পলাতক রয়েছে।

সূত্র জানায়, পাগলা দেলপাড়া এলাকার কেএম সোয়েব আহমেদের ছেলে সৃজন হাউজিংয়ের মালিক কাজী শামীম তারেক জেলার সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল ও ব্রাক্ষ্মণগায়ে বিভিন্ন নিরীহ মানুষের জমির উপর ভুয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। এই প্রতারক চক্রটি সদর উপজেলার ইসদাইরের মৃত. সামসুল হক বেপারীর ছেলে মো. মোশারফ হোসেনকে কম টাকায় প্লট দেয়ার নামে ২০১২ সালের মে মাস হতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৩৫ লাখ টাকা গ্রহন করেন। কিন্তু মোশারফ হোসেনকে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন। এ ঘটনায় মো. মোশারফ হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও করেন। যার নং ৬৯৪ (১৫/১/১৭ইং)।

এদিকে থানায় সাধারণ ডায়েরী করায় মোশারফের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে কাজী শামীম তারেক ও তার সহযোগিরা। বিনিময়ে বিভিন্ন সময় নানা হুমকি ধামকি দিতে শুরু করে। এসব ঘটনায় নিরুপায় হয়ে মোশারফ হোসেন শামীম তারেকসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একটি সিআর মামলা করেন যার নং ৩৪৯/১৭।

অপরদিকে প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে শামীম তারেকের সহযোগিরা মোশারফ হোসেনকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহত হুমকী প্রদান করেন এবং কক্সবাজার থেকে মেজিস্ট্রেটের জাল স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে মোশারফ হোসেনকে হয়রানী করতে শুরু করেন। এ ঘটনায় মোশারফ হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় আরও একটি সাধারন ডায়েরী করেন। যার নং ৩৯০ (৮/৮/১৭ইং)। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ প্রতারক শামীম তারেককে গ্রেফতার করে।

এদিকে এত এত প্রতারণার পরেও দমেনি সৃজন হাউজিংয়ের প্রতারণা। নানা কৌশলে একই জমি বিভিন্ন জনকে দেখিয়ে অল্প মূল্যে প্লট দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কর্ম তিনি চালিয়ে আসছেন সুকৌশলে। এমনকি এসব প্রতারণার কাজে তিনি তার স্ত্রীকেও ব্যবহার করছেন। তেমনই এক অভিযোগে আদালত তার স্ত্রী শিউলি তারেক ও জিএম আফরিন আক্তারকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন ৮ সেপ্টেম্বর।

অপরদিকে প্রতারণার এই তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে শামীম তরেকের সন্ত্রাসী বাহিনী সাংবাদিকদের বাধা দেন এবং গায়েও হাত তুলেন আদালত চত্বরে। যদিও এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করলে নিজের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে তাই নারায়ণগঞ্জ টুডেকে সংবাদ প্রকাশ না করতে ব্যাপক তদবির করেন শামীম তারেক।

এদিকে স্থানীয়রা বরছেন, বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা কাজী শামীম তারেকের উত্থান বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলে মনিরুল আলম সেন্টুর হাত ধরে। তিনি মনিরুল আলম সেন্টুর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন মানুষের সাথে নানা ভাবে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিকও বনেছিলেন তিনি। সৃজন হাউজিং লিমিটেড হচ্ছে সেই প্রতারণার একটি অন্যতম মাধ্যম। অনেকের কাছে তিনি নীরব ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তার ব্যাপারে জোড়ালো পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সুপারের প্রতি দাবি জানান ভুক্তভোগিরা।

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে