NarayanganjToday

শিরোনাম

কাউন্সিলর বাবুর শেল্টারেই চলছিলো মাদক ব্যবসা?


কাউন্সিলর বাবুর শেল্টারেই চলছিলো মাদক ব্যবসা?

কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। নানা সময়েই নানা ধরণের বিতর্ক কর্মকা- করে সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এই ডিস ব্যবসার একচ্ছত্র অধিপতি। নানা সময় নানা মুখেই শোনা গেছে, তার শেল্টারে তার সহযোগিরা মাদকের ব্যবসা করেন। যদিও সেসব ঘটনার তথ্য প্রমাণ ইতোপূর্বে পাওয়া যায়নি।

তবে, এবার রাঙা হাতেই তার সহযোগি ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর অন্যতম সহযোগি জাহিদুর রহমান সজিবকে তারই এক সহযোগি মাদক ব্যবসায়ীসহ আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনার পর অনেকেই বলছেন, যেহেতু ইয়াবাসহ আটক হওয়া ব্যক্তি বাবুর ঘনিষ্ঠজন। বাবুর শেল্টারেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সেহেতু তার মাদক ব্যবসার শেল্টারদাতা বাবুকেই বলা যেতে পারে।

বাবুর নেতৃত্বে একটি দলীয় মিছিলের প্রথম সারিতেই জাহিদুর রহমান সজিব (লাল রঙ গোল চিহ্নিত)

পুলিশ দাবি করেছে, আটক জাহিদুর রহমান সজিব এবং পারভেজের কাছ থেকে ১শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আটকের পরপরই কাউন্সিলর বাবু পুলিশের এসআই শাহাদাৎ হোসেনকে চ্যালেঞ্জও জানিয়েছিলে। তখন পুলিশ উদ্ধারকৃত ইয়াবা দেখিয়ে দিলে বাবু নত শীরে চুপ হয়ে যান। এ ঘটনায় এসআই শাহাদাৎ বাদী হয়ে আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আটক জাহিদুর রহমান সজিব কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর অত্যন্ত আস্থাভাজন ঘনিষ্ঠজন। তাকে, প্রায় সময় বাবুর সাথে বিভিন্ন মিটিং মিছিল ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। যদিও বাবুর দাবি সে তার লোক নয়। তার অফিসে সবারই আসার অধিকার আছে।

তবে, প্রশ্ন উঠেছে যে মানুষটি এলাকার চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ী। যার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ও ডাকাতি মামলাও রয়েছে। তাহলে তার মতো এমন ব্যক্তি কী করে কাউন্সিলরের অফিসে, মিটিং মিছিলে এবং ঘনিষ্ঠ ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তুলে থাকেন?

বাবুর সাথে একান্তে একটি সেলফিতে জাহিদুর রহমান সজিব। ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে এটি বাবু নিজেই তুলেছিলেন

এ ব্যাপারে আব্দুল করিম বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমের বিষোদগার করে তার ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন। যেখানে তিনি গণমাধ্যকর্মীদেরকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলেও আখ্যায়িত করেন। ব্যাপারটা অনেকটা ‘উদোর পি-ি বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর মতো বলেই মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

সূত্র বলছে, ইয়াবাসহ গ্রেফতার জাহিদুর রহমান সজিবকে আব্দুল করিম বাবুর সাথে একাধিক ছবিতে দেখা গেছে। এমনকি সাংসদ শামীম ওসমানের পিছনে দাঁড়িয়ে বাবু যখন ছবি তুলেছেন সেখানেও জাহিদুর রহমান সজিবের উপস্থিত ছিলো লক্ষণীয়। শুধু তাই নয়, বাবুর নেতৃত্বে একটি মিছিলের প্রথম সারিতেও দেখা গেছে তাকে।

অথচ, বাবু তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার সাথে ছবি থাকলেই আমার লোক হবে তা কিন্তু নয়। আমি একজন জনপ্রতিনিধি আমার অফিসে আসার অধিকার সবাইর আছে।’ তাই সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন জনপ্রতিনিধির অফিসে সবাই আসতে পারে। কিন্তু একই ব্যক্তিকে যদি তার সাথে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত এবং মিছিলে দেখা যায় তাহলে সেটি কী তার লোক হিসেবে বিবেচ্য করা দোষনীয়?

সাংসদ শামীম ওসমান নিজেও হয়তো চিনেনে না জাহিদুর রহমান সজিবকে। কিন্তু বাবু তাকে সাথে নিয়েই ছবি তুলেছেন। আর এভাবে সাংসদকে তাদের মতো কিছু মানুষ বিতর্কিত করে তুলেন

প্রসঙ্গত, আব্দুল করিম বাবু নিজেই একজন বহুল বিতর্কিত ব্যক্তি। চাঁদাবাজির একাধিক মামলায় তিনি প্রায় এক মাসের মতো জেলও খেটেছেন। তাকে জেলাব্যাপী সবাই চিনেন ডিস ব্যবসার গডফাদার হিসেবে। বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তার রয়েছে একাধিক বাহিনীও। এছাড়াও তার বৈধ অস্ত্র অবৈধ ভাবে প্রদর্শনের কারণে পুলিশ তা জব্দও করেছে। শুধু তাই নয়, প্রায়সময়ই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ শোনা যায়। তিনি সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অপকর্ম করে চলেছেন বলেই স্থানীরা মনে করে থাকেন।

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে