NarayanganjToday

শিরোনাম

এসপি অফিসের সংবাদে চটেছেন শামীম ওসমান!


এসপি অফিসের সংবাদে চটেছেন শামীম ওসমান!

সাংসদ শামীম ওসমান গিয়েছিলেন এসপি অফিসে। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণিত হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা ছিলো তুঙ্গে। তবে, এ ঘটনায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভসহ তীব্র সমালোচনা করেছেন সাংসদ নিজেই।

১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাংসদ শামীম ওসমান ফতুল্লার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই ঘটনার ছবি তোলা এবং তার এসপি অফিসে ছুটে যাওয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করায় গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন।

এর আগে একই দিন বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছুটে যান। সেখানে তিনি ৫০ মিনিট কাটিয়ে বের হয়ে আসেন ৫ টা ৫৫ মিনিটে। এরপরপরই কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।

এদিকে এসপি অফিস থেকে বের হয়ে ফতুল্লা বাজারে শাহ্ ফতেউল্লাহ কনভেনশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন শামীম ওসমান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, সেখানে তিনি গণমাধ্যমের বিষোদগার করেন।

সেখানে তিনি বলেছেন, কিছুক্ষণ আগে আমি এসপি অফিসে গিয়েছিলাম। আমি গেছি জরুরী কথা বলতে। আমি দেখছি সেখানে কিছু লোক ঘুরতেছে। আমি সাথে সাথে ওইখানকার কর্মকর্তারে বলছি, ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করতেছে কারা এরা? হয়তো বা দুইটা কিংবা একটা অনলাইন নিউজ। আমি এই পত্রিকা পড়িও না। আমি লোকাল পত্রিকা সব পড়ি না। কিছু মনে কইরেন না। আমি দেখার সময় পাই না।

শামীম ওসমান সেখানে দাম্ভিকতার সাথে আরও বলেছিলেন, আমি প্রথম আলো পত্রিকাই পড়ি না আর অন্য পত্রিকা কি পড়বো। এগুলা দেখতে দেখতে আমার সময় চইলা গেছে অনেক।

তিনি বলেন, আমি এসপি অফিসে যাওয়াতে দুই একটা অনলাইন নিউজ করছে যে, দৌড়ে গেলেন শামীম ওসমান এসপি অফিসে। কারণ কী? এমপি পুলিশের সাথে কথা বলবে না তো কথা বলবে কে? কয়দিন আগে এসপি তো দৌড়ে গেছিলো আমার কাছে রাইফেল ক্লাবে। তিন ঘণ্টা কথা বলে আসছে। যদি তারা জানতো তাহলে হয়তো নিউজ করতো, দৌঁড়ে গেলেন এসপি। এরাই সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়। এটাকে সাংবাদিকতা বলে না। এটাকে বলে হলুদ সাংবাদিকতা।

এছাড়াও তিনি গুটি কয়েকজনকে মেধা সম্পন্ন সাংবাদিক দাবি করে অন্যদের দোকানি হিসেবেও উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন। একই সাথে তিনি তার বিরুদ্ধে লেখাতে প্রধানমন্ত্রী প্রেস উপদেষ্টাকেও ছাড় দেননি বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, প্রথম আলো, ডেলি স্টারকেই আমি ছাড় দিই নাই আর তারা তো অনেক ছোট লেবেলের। খেলতে হলে অন্য জায়গায় গিয়ে তিনি খেলার পরামর্শ দেন। এখানে তিনি এসব প্রশ্রয় দিবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেসব এলাকায় এমপি মন্ত্রীরা এসব প্রশ্রয় দেয় সেখানে গিয়ে খেলেন। এখানে না।

প্রসঙ্গত, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টা ৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যান সাংসদ শামীম ওসমান। তার সাথে ছিলেন দৈনিক যুগান্তর এবং ডিবিসি টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রাজু আহম্মেদ। পরে এসপি হারুন অর রশীদের সাথে তার কক্ষে একান্তে কিছুক্ষণ কথা বলেন সাংসদ। এরপরই এসপি অফিস তিনি ত্যাগ করেন বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে। তবে, তাদের মধ্যে কী নিয়ে কথা হয়েছে তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। যার ফলে এ নিয়ে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি করে।

সূত্র বলছে, নানা ভাবেই নানা কারণেই এসপি হারুনের সাথে দূরত্ব রয়েছে সাংসদ শামীম ওসমানের। বিশেষ করে পুলিশী অভিযানে সাংসদ অনুসারি বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হওয়াতে এই দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এমনকি সাংসদ অনুসারি আব্দুল করিম বাবুকে গ্রেফতারের পর এসপি অফিসে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার শামীম ওসমান এসপি অফিসে যাওয়াতে এ নিয়ে সবার মাঝেই কৌতুহলের উদ্রেক করেছে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে