NarayanganjToday

শিরোনাম

আইভীকে ঠেকাতে ১শ কোটি টাকার মিশন!


আইভীকে ঠেকাতে ১শ কোটি টাকার মিশন!

বাংলাদেশের মধ্যে এখন ব্যাপক আলোচিত নাম জিকে শামীম। ইতোমধ্যে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন সোনারগাঁয়ের এই সন্তান। আটককালে তার অফিস থেকে দেড় কোটি টাকা, ১শ ৬৫ লাখ টাকার এফডিআর জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র। এরপরই তাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরদিন স্থগিতাদেশ দেয়া হয় তার ব্যাঙ্ক একাউন্টের উপর। সেখানে পাওয়া গেছে ৩শ কোটি টাকা।

গণপূর্ত বিভাগের ‘ডন’ বলা হতো তাকে। তার নেতৃত্বেই চলতো এই বিভাগের সকল টেন্ডার। অঢেল ধন সম্পদের মালিক এই জিকে শামীম এক সময়ে খাতা কলমে যুবদল করলেও পট পরিবতর্নের বোল পাল্টে মিশে যায় আওয়ামী লীগে। দলীয় কোনো পদ না থাকলেও তিনি ছিলেন যুবলীগ নেতা পরিচয়ে অত্যন্ত দাপুটে।

শেষ পর্যন্ত দলীয় পদেও জন্য উঠে পড়ে লাগেন জিকে শামীম। এক চিকিৎসকের সূত্র ধরে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এবং প্রভাবশালী এক সাংসদের সাথে সখ্যতা তৈরি হয় তার। আশ্বাস পেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাকে বানানো হবে। সে মোতাবেক ২০১৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের একটি বর্ধিত সভায় প্রস্তাবও করা হয় জিকে শামীমের নাম। কিন্তু সোনারগাঁয়ের অপর একটি পক্ষে বিরোধীতার কারণে সে আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

তবে, জিকে শামীম সর্বত্রই নিজেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার অফিসে প্রায় প্রতিটি ছবির নিচের ক্যাপশনে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি’ দপটিই লেখা ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, কমিটির জাল কোনো কাগজের মাধ্যমে জিকে শামীমকে সহসভাপতি হিসেবে বলা হয়েছিলো বিশেষ সুবিধা লুটে নিতে। যে কারণে দৃঢ়তার সাথেই তিনি নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দাবি করতেন।

এদিকে জিকে শামীমের অর্থ আর নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি মহলের প্রভাব- এই দুই মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জিকে শামীমকে স্টাব্লিশ করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তাদের মূল টার্গেটই ছিলো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এখানকার বর্তমান মেয়র আইভী যাতে আগামীতে নৌকা প্রতীক না পায়, সে লক্ষ্যে তারা কাজও করে যাচ্ছিলেন। আর সে জন্য যত টাকা দরকার তা সবই খরচা করতে প্রস্তুত ছিলেন জিকে শামীম।

জিকে শামীম আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের মেয়র হতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি ১শ কোটি টাকা বাজেটও ধরেছেন। সাংসদ শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার খারাপ সম্পর্ককে তিনি কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জে ঘাঁটি গেড়ে বসতে চেয়েছিলেন। তার ইচ্ছের কথা তিনি সাংসদ শামীম ওসমানকেও জানিয়েছিলেন।

তবে, শামীম ওসমান তেমন কোনো আশ্বাস না দিলেও সাংসদ অনুসারি জেলা আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ জিকে শামীমকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এবং পরবর্তীতে মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। আর এ জন্যই এই পক্ষটা বেশ জোর দিয়েই বিগত দুটি সভাতে মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘এবার আর নৌকা পাবেন না, নৌকা আর দেওয়া হবে না। আমরাও দেখবো আপনি নৌকা কি করে পান।’ পক্ষটি নিশ্চিত ছিলো তারা মেয়রকে আটকাতে পারবেন শত কোটি টাকার বিনিময়ে।

এদিকে জেলার সেই পক্ষটির স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে র‌্যাবের অভিযানে জিকে শামীম আটক হওয়ার মধ্য দিয়ে। ভেস্তে গেছে তাদের সকল প্ল্যান প্রোগ্রাম। পাশাপাশি জিকে শামীমের সাথে গোপন আঁতাত থাকাতে কেউ ফেঁসে যেতে পারেন সে আতঙ্কেও রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, জিকে শামীম আটকের পর হঠাৎ করেই সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে তার একটি ছবি প্রকাশ পায় ফেসবুকে। সেখানে তারা একই রুমে বসে খাচ্ছিলেন। আর সে রুমটি ছিলো জিকে শামীমের অফিস। এরপর পরই প্রকাশ পায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন জিকে শামীম। তার পাশে দাঁড়ানো ছিলেন দলটির সভাপতি আব্দু হাই।

অভিযোগ উঠেছিলো, জিকে শামীমকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি করার জন্য বাদল নিজেই সেই বর্ধিত সভাতে প্রস্তাব করেছিলেন। এতে নীরব সমর্থন ছিলো সভাপতি আব্দুল হাইয়ের। যদিও শামীম আটকের পর তা অস্বীকার করেছিলেন হাই। তার দাবি ছিলো, তিনি জিকে শামীমকে চেনন না। দেখনওনি কখনো।

অথচ তার এই বক্তব্যের পরদিনই জিকে শামীমের সাথে হাই-বাদলের ছবি ফাঁস হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, জিকে শামীমকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে হাই-বাদলই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এতে শামীম ওসমানেরও একটা সমর্থন ছিলো বলেই বিভিন্ন স্তরে গুঞ্জন রয়েছে। তাদের পাশে ছিলেন একজন চিকিৎসক। মূলত তিনিই জিকে শামীমকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রধান ভূমিকা এবং যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে