NarayanganjToday

শিরোনাম

নজরদারিতে কালো তালিকাভূক্ত সেই এমপিসহ তিনজন!


নজরদারিতে কালো তালিকাভূক্ত সেই এমপিসহ তিনজন!

নারায়ণগঞ্জের একজন সাংসদ কালো তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এমন খবর আগেই রটেছিলো। তবে, এবার খবর পাওয়া গেছে ওই সাংসদের ঢাকাস্থ ফ্ল্যাটে অতিসম্প্রতি ‘রেকি’ করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা!

সূত্র জানায়, জিকে শামীমের গ্রেফতারের পরপরই তার সাথে সম্পৃক্ত অনেকের ব্যাপারেই খোঁজ খবর নিতে শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগ। বলা হচ্ছে স্থানীয় দু’জন সাংসদসহ তিনজনের সাথেও সম্পর্ক ছিলো জিকে শামীমের। ফলশ্রুতিতে ওই তিনজনের একজনকে নজরে আনা হয়েছে।

সূত্রের মতে, সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে তথা জি কে শামীম গ্রেফতারের পরই নারায়ণগঞ্জের একজন সাংসদের ঢাকার ১৬ হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটে ‘রেকি’ করেন একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে, কি কারণে এই রেকি করা, পরবর্তীতে কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এর বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি। এমনকি রেকি করার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বা এর পবর্তী করণীয় সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধিন নয়টি ভবন থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট জিকে শামীমের কাছ থেকে ১০ শতাংশ হারে কমিশন গ্রহণ করার ব্যাপারেও তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। এখানে দুজন এমপি এবং একজন ব্যবসায়ী নেতার নাম উঠে এসেছে। এই দুই এমপির একজনের ফ্ল্যাটেই রেকি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

যেসব কাজের ব্যাপারে কমিশন গ্রহণ করার তথ্য উঠে এসেছে সেসব হচ্ছে, ১২শ ৫০ স্কয়রা ফুটের পনের তলা বিশিষ্ট ভবন দুটি, ১ হাজার স্কয়ার ফুটের পনের তলা ভবন দুটি, ৮শ স্কয়ার ফুটের পনের তলা ভবন দুটি, ৬শ ৫০ স্কয়ার ফুটের পনের তলা ভবন দুটি এবং নগরীর ৩শ শয্যা হাসপাতালকে ৫শ শয্যায় উন্নতিকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ।

সূত্র বলছে, এই কাজগুলো জিকেবি গ্রুপ এবং একই গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পিবিএল-ডিসিএল (জেভি) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পায়। ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এসব কাজের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজনকে ১০ শতাংশ কমিশনের ৪০ কোটি টাকা প্রদান করেছে বলেও জানা গেছে।

তবে, এসব কমিশনের টাকা এবং জিকে শামীমের সাথে কথা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন একজন ব্যবসায়ী নেতা। মূলত তার মধ্যস্থতায় এই কমিশন চূড়ান্ত হয় এবং কমিশনের টাকাও প্রদান করা হয়েছিলো বলে খবর রয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই কমিশন সংক্রান্ত চুক্তি এবং কাজগুলো সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল ঝামেলা তারা দেখভাল করবেন বলেও জিকে শামীমকে কথা দিয়েছিলেন। আর সেই থেকেই তাদের সখ্যতা গড়ে উঠে জিকে শামীমের। এর জন্য অবশ্যই ওই ব্যবসায়ী নেতাই ছিলেন প্রধানতম ব্যক্তি।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপিসহ দেশের ২৭ জন এমপিকে কালো তালিকাভূক্ত করা হয়েছে বলে একটি গণমাধ্যম খবর প্রকাশ হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাসহ নিজস্ব একটি টিমের মাধ্যমে তাদের অপকর্মের তদন্ত করছেন বলে নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিলো।

কালো তালিকাভূক্ত নারায়ণগঞ্জের এমপি সম্পর্কে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপি যার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের প্রকাশ্য দ্বন্দ দেখা দেয় তাকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তবে কে সেই এমপি সে নাম ওই প্রতিবেদনটিতে প্রকাশ করা হয়নি।

৪ অক্টোবর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে