NarayanganjToday

শিরোনাম

শামীমের অস্ত্রধারী ক্যাডার সেই ছাত্রলীগ নেতা আত্মগোপনে


শামীমের অস্ত্রধারী ক্যাডার সেই ছাত্রলীগ নেতা আত্মগোপনে

টেন্ডার কিংখ্যাত জিকে শামীমের ৮ অস্ত্রধারী ক্যাডারের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সোনারগাঁয়ের ছেলে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ মোহাম্মদ হোসেন।

শামীম গ্রেফতারের পর তার অন্যান্য অস্ত্রধারী ক্যাডারদের পাশাপাশি মোহাম্মদ হোসেনও আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। জি কে শামীমের সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকত মোহাম্মদ হোসেন ও তার ক্যাডাররা।

সূত্র জানায়, প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদার এবং বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে এসব ক্যাডার ব্যবহার করতেন শামীম। চাঁদাবাজি ও গরুর হাটের নিযন্ত্রণ নিতেও এই ক্যাডার বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জি কে শামীমের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের মধ্যে সজল ৬ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারকে হুমকি দিত। এতে কোনো টেন্ডারে প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদার আর অংশ নিতেন না। ফলে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকত না। তিনি নির্বিঘেœ কাজ পেতেন।

শামীমের বিশেষ অস্ত্রধারী ক্যাডার দলের প্রধানের নাম আমিনুল এহসান বাবু ওরফে ডিশ বাবু। শামীমের আরেক সহযোগীর নাম দিদার। তার কাজ ছিল কমিশন সংগ্রহ করা। শামীমের হয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত রওনক। রওনকের কাছে ছোটখাটো অস্ত্রভা-ার রয়েছে। সে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন স্থান থেকে শামীমের জন্য অস্ত্রও সংগ্রহ করেন তিনি।

এসব ক্যাডারের বাইরে শামীমের সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকত অস্ত্রধারী মোহাম্মদ হোসেন ও তার ক্যাডাররা। তার সহযোগী সাবেক ছাত্রনেতা ফাহিম খান রনি ও মিলন দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের শিষ্য এবং তার গাড়িচালক ছিলেন মিলন। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করা এবং ঘুষ লেনদেনের দায়িত্বে ছিল মিল্টন।

প্রসঙ্গত, ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা করে র‌্যাব।

১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় করা অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। র‌্যাব ২৭ সেপ্টেম্বর খালেদকে দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়।

এদিকে ২০ সেপ্টেস্বর জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করে র‌্যাব। ২১ সেপ্টেম্বর দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত অস্ত্র মামলায় চার দিন এবং মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৪ অক্টোবর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে