NarayanganjToday

শিরোনাম

জিকে শামীমের তথ্যে ধরা খেতে পারেন সেই এমপি?


জিকে শামীমের তথ্যে ধরা খেতে পারেন সেই এমপি?

দ্বিতীয় দফায় দুইটি মামলায় চার ও পাঁচ দিন করে মোট নয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ‘টেন্ডার কিং’ জি কে শামীমকে। এর আগে ১০ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজি করা হয়। পরে সিআইডি পৃথক ভাবে ওই ৯ দিনের রিমান্ডে নেয় তাকে।

এদিকে রিমান্ডে থাকা জি কে শামীমের দেয়া তথ্য নিয়ে মাঠে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থা। নজর রাখা হয়েছে তার সাথে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের উপরও। পাশপাশি টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে এই পর্যন্ত যাদেরকে সে কমিশন দিয়েছে সেসব রথি মহারথিদের উপরও নজর রাখছে গোয়েন্দা। জিকে শামীমও বেশ কয়েকজনের নাম রিমান্ডে জানিয়েছে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন এমপির নামও উঠে এসেছে।

অতি সম্প্রতি ওই এমপির ঢাকার ফ্ল্যাটে রেকি করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তার উপর রাখা হচ্ছে কঠোর নজরদারি। এমনিতে এই এমপি ইতোপূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর কালো তালিকাভূক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে জিকে শামীমের সাথে ঘনিষ্ঠতায় তার প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলটির হাই কমান্ড।

এদিকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর ভাবেই দলীয় সিনিয়র নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, দলীয় লোক, আত্মী স্বজন অথবা যে-ই হোক, এই শুদ্ধি অভিযানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও চাচ্ছেন, দুর্ণীতির শিকড় শুদ্ধ উপড়ে দিতে। যার কারণে হার্ড লাইনে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র থেকে জানা গেছে, জিকে শামীমের কমিশন নেয়াদের তালিকাতে নারায়ণগঞ্জের এমপি, ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। এছাড়াও এই শামীমের সাথে সখ্যতা রয়েছে একজন চিকিৎসকেরও। মূলত তিনিই শামীমের হয়ে এদিন সেদিক বড় ভাইদের কাছে তদ্বির করতেন। বিনিময়ে তিনিও আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

সূত্রটি বলছে, প্রথম আটটি নির্মাণাধিন ভবন থেকে নারায়ণগঞ্জের একজন এমপি ১০ শতাংশ হারে কয়েক কোটি টাকা কমিশন গ্রহণ করেন জিকে শামীমের কাছ থেকে। এর মূলে কথা আদান প্রদান এবং সেটিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন একজন ব্যবসায়ী নেতা। ইতোমধ্যে তিনি বেশ বিতর্কিত হয়েছেন।

শুধু তাই নয়, অপর এক এমপির নামে আরেকটি নির্মাণ কাজের জন্য ওই ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই প্রায় দশ কোটি টাকার লেন দেনও হয়েছিলো বলে শোনা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, অপর এমপি এই কমিশনের ভাগ নিয়েছেন। তবে, শেষতক খবর পাওয়া গেছে অপর এমপির নামে এই কমিশনের টাকা আসলেও কালো তালিকাভূক্ত এমপির পকেটেই গেছে এই টাকাটা। কিছু গেছে ওই বিতকির্ত ব্যবসায়ীর পকেটে।

এছাড়াও সোনারগাঁয়ে একটি নির্মাণ কাজের থেকেও জিকে শামীমের কাছ থেকে কালো তালিকাভূক্ত ওই এমপিই ১০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আর এসব কিছুই নাকি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জিকে শামীম নিজেই স্বীকার করেছেন। জিকে শামীমের কাছ থেকে প্রাপ্ত এসব তথ্য এখন যাচাই বাছাই করছে দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থা। মূলত এই লক্ষ্যে কালো তালিকাভূক্ত ওই এমপির ঢাকার ফ্ল্যাটে রেকি করেছেন ওই সংস্থাটি।

এদিকে, কালো তালিকাভূক্ত কে এই এমপি, কার সাথে জিকে শামীমের সখ্যতা কমিশন ভাগাভাগি হয়েছিলে, এ নিয়ে এখন পুরো নারায়ণগঞ্জজুড়েই চলছে ব্যাপক তোলপাড়। তারমধ্যে আবার ওই এমপির ঢাকার ফ্ল্যাটে গোয়েন্দা সংস্থার রেকি করা নিয়েও আলোচনা এখন তুঙ্গে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে তিনিও কি ধরা খেতে পারেন?

৫ অক্টোবর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে