NarayanganjToday

শিরোনাম

নেপথ্য নূর হোসেন : ১৯ বছর নেই অগা মিঠু তবুও তার স্বাক্ষরে আম মোক্তারনামা!


নেপথ্য নূর হোসেন : ১৯ বছর নেই অগা মিঠু তবুও তার স্বাক্ষরে আম মোক্তারনামা!

একজন লাপাত্তা দু হাজার সালের ১৬ জুনের পর থেকে। আরেক মারা গেছেন আঁততায়িদের হাতে। অন্য আরেকজন কনডেম সেলে বসে গুণছেন মৃত্যুর প্রহর। তবে, এই তিনজনের নাম ভাঙিয়ে, ভুয়া একটি আম মোক্তারনামা দলিলে একটি জমি দখলের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে লোকমান আহম্মেদ নামে জনৈক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সূত্র মতে, সিদ্ধিরগঞ্জের বাগমারা এলাকার মৃত লূৎফর রহমানের ছেলে লোকমান আহম্মেদ একটি আম মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে দাবি করেছেন, সাত খুন মামলার ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামী নূর হোসেন, আততায়ীদের হাতে নিহত নুরুল আমিন মাকসুদ এবং দুই হাজার সাল থেকে পলাতক এস এম সায়েম মিঠু তাকে সিদ্ধিরগঞ্জে আটি মৌজার ৪৬ শতাংশ কাতে ১০ শতাংশ জমির আম মোক্তার হিসেবে নিয়োগ করেছেন।

তবে, মজার বিষয় হচ্ছে, অনুসন্ধানে আম মোক্তারনামা দলিল যেমন ভুয়া তেমনি লোকমান আহম্মেদ নামের ওই ব্যক্তির ঠিকানাও ভুয়া হিসেবে জানা গেছে। কেননা, লোকমান দাবি করেছেন তার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের বাগমারা এলাকায়। তার পিতার নাম লুৎফর রহমান। কিন্তু পুরো বাগমারা এলাকায় ঘুরে, নবীন-প্রবীন বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এই নামের কারো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো কালে এই নামে কেউ ওই এলাকাতে ছিলেন না বলেই নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এছাড়া আম মোক্তারনামা দলিলে এস এম সায়েম মিঠু নামে যে ব্যক্তির স্বাক্ষর দেখানো হচ্ছে, সেই মিঠুর হদিস নেই দুই হাজার সালের ১৬ জুন চাষাড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার পর থেকে। আদতে তিনি বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন, এর কোনো সত্যতাও জানা নেই কারো কাছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে এই মিঠু কী করে লোকমান আহম্মেদকে আম মোক্তারনামা দলিল করে দিয়েছেন?

অ্যাডভোকেট মনির হোসাইন মিয়া স্বাক্ষরিত নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আম মোক্তারনামা দলিলে লোকমান আহম্মেদ দাবি করেছেন, নূর হোসেন, মাকসুদ ও মিঠু ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আম মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া দিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এর দুই বছর আগে তখা ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ (এ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ওই তিনজনসহ চারজনের তিন বছর করে সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের এক নং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তখন থেকেই তারা পলাতক ছিলেন।

তাই প্রশ্ন উঠেছে, পলাতক থাকা অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত তিনজন ব্যক্তি কী করে লোকমান আহম্মেদকে আম মোক্তারনামা দলিল করে দেন? সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, সাজাপ্রাপ্ত ওই তিনজনের মধ্যে এস এম সায়েম মিঠু দেশ ছেড়েছেন আজ থেকে ১৯ বছর আগে তথা ২০০০ সালের ১৬ জুন। অদ্যাবধি এই মিঠুর কোনো হদিস নেই। সে বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন কিংবা বেঁচে থাকলে কোথায় আছেন, এর কিছুই জানে না নারায়ণগঞ্জবাসী।

তাই ধরে নেওয়া হয়, এস এম সায়েম মিঠু মারাই গেছেন! যদি তা না হতো তাহলে, বিগত জোট সরকার আমলে যারাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। একমাত্র মিঠুই ফিরেনি দেশে। আজও পর্যন্ত কোনো সভা সমাবেশে, ঘরোয়া কোনো আয়োজনেও তার দেখা কেউ পায়নি। অনেকেই বলেন, বেঁচে থাকলে অন্তত তার দেখা মিলতো বা কোথাও না কোথাও দেখা যেত।

১৫ অক্টোবর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে