NarayanganjToday

শিরোনাম

এক এএসআই মোমেনে জেলা পুলিশের সর্বনাশ


এক এএসআই মোমেনে জেলা পুলিশের সর্বনাশ

একের পর এক অনিয়ম ঘটিয়ে চললেও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে কোনো রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোমেন আলমের বিরুদ্ধে। ফলশ্রুতিতে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পুলিশের মহা পরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এক ভুক্তভোগি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ইলিয়াস নামের ওই ভুক্তভোগিকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দুই দফা টাকা আদায় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এর আগে থানার এসআই কামালের সাথে তিনি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানা এলাকা থেকে এক যুবককে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে আসে। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগি এসব অভিযোগ ভিডিও আকারে প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার বহু ব্যক্তিই পুলিশের এই এএসআইয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বলে জানিয়েছেন। তিনি সাদা পোশাকেই মানুষকে হয়রানি করে থাকেন বিশেষ এক ক্ষমতার জোরে। কোনো এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও নাকি তার এমন সামারিতে সায় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরের ৫ আগস্ট তিনি এই থানায় যোগদান করেন। এরপর থেকেই কয়েকজন সোর্সের সহযোগিতায় সাদা পোশাকে তিনি কখনো নিজেকে র‌্যাবের লোক, কখনো ডিবির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে চলেছেন।

মোমেন আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ অক্টোবর থানার নয়াপাড়া এলাকার বাদলের ছেলে সুমনকে তুলে নিয়ে আসেন মোমেন আলম। পরে তাকে নাভানা সিটিতে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন।

এর আগে ১৩ অক্টোবর থানার সাইলো এলাকা থেকে টুন্ডা শাহিন ও তার ছেলেকে একই কায়দায় নাভানা সিটিতে তুলে নিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন ওই এএসআই। এছাড়াও ১ অক্টোবর ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিরর রুহুল আমিন মোল্লার ভাতিজা সজিব মোল্লাকে একই রকম ভাবে নাভানা সিটিতে তুলে নিয়ে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন তিনি। এমন আরও অসংখ্য অভিযোগ উঠছে এই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে।

কেউ কেউ সাহস করে তার অপকর্মের কথা প্রকাশ করলেও বহু সংখ্যক মানুষ ভয়ে মুখ খুলেন না। আবার তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো রকম ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগি মহলসহ সাধারণ মানুষ।

সূত্র আরও জানায়, মৃদুল, আলামিনসহ এমন আরও চার পাঁচজন সোর্সের মাধ্যমেই এসব অপকর্ম করে বেড়ান এএসআই মোমেন আলম।

এ প্রসঙ্গে জানতে মোমেন আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে মৃদল, আলামিনরা সোর্স, তাদের চিনেন বলেও স্বীকার করলেও তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‘ভাই, আবার নিউজ করবেন! তাহলে তো ভাই এখান থেকে আমার চলে যাওয়াই ভালো’ মন্তব্য করে মোমেন আলম নারায়ণগঞ্জ টুডেকে বলেন, ‘ভাই একটু পরে কথা বলছি আপনার সাথে। একটা চিঠি আছে সেটি দিয়ে আসি।’

২৩ অক্টোবর, ২০১৯/এমএ/এনটি

 

উপরে