NarayanganjToday

শিরোনাম

এসপির বদলীর সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে শহর!


এসপির বদলীর সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে শহর!

কোনো কিছুই শূন্যস্থান থাকে না, ধীরে ধীরে সব শূন্যস্থানই পূর্ণ হয়ে যায়। অথবা কেউ কেউ শূন্যস্থান পূরণ করে দেয়। তেমনি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত এতদিন শূন্য, ফাঁকা থাকলেও তা আর নেই। এখন এই ফুটপাত আগের মতো চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের বদলী হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখল নিতে শুরু করে হকাররা। সব শেষ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দখলের চিত্র ছিলো পূর্বের মতো কানায় কানায় পরিপূর্ণ। এমন দৃশ্যে ফুটপাতে হাটাচলা করা মানুষেরা বলতে শুরু করেছেন, এসপির বদলী হতে হতে না হতেই ফুটপাতের এই রূপ সামনে কি পরিস্থিতি হবে তা বলাবাহুল্য!

শহর ঘুরে এবং শহরবাসীর সাথে আলাপ করে এমন বদলে যাওয়া চিত্র যত্রতত্রই চোখে পড়ে। এক কথায়, এসপি হারুনের বদলীতে বদলে যাচ্ছে পুরো শহর। এর পাশাপাশি শহরতলীর রঙও বদল হতে শুরু করেছে। কেউ কেউ হাঁক-ডাক দিয়ে গর্ত ছেড়েও বের হতে শুরু করেছেন!

৩ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) শাখায় বদলী করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই বদলীর আদেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, এসপি হারুনের বদলীর খবর প্রকাশ হতেই একটি পক্ষ ব্যাপাক ভাবে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন। এই পক্ষটি অপরাধ প্রবণাতায় এতটাই জড়িয়ে ছিলেন যে, বিগত দিনগুলিতে এসপির কারণে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে ছিলেন। বিগত কয়েক মাস এদেরকে প্রকাশ্যে তেমন একটা দেখা যায়নি। দেখা গেলেও ছিলো না পূর্বের মতো হাঁক-ডাক।

অপরদিকে এসপির বদলী হওয়ার পরদিন (৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত দখল নিতে শুরু করেন হকাররা। তারা এদিন থেকে ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেন। মঙ্গলবার পুরোদমে হকারদের দেখা যায় বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পার্শ্বের ফুটপাতে। এতদিন এসব ফুটপাতে হকার বসার সাহস দেখাতে পারেনি।

সম্প্রতি ফুটপাতে বসার অপরাধে হকার নেতা রহিম মুন্সিসহ বেশ ক’জনকে আটক করা হয়েছিলো। পরে ফুটপাত দখল আর করবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়াতে তাদেরকে সেদিন ছেড়েও দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেই রহিম মুন্সিও ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বিকিকিনি করছেন!

এছাড়াও পূর্বের মতো চাষাড়া হকার্স মার্কেট ও মাধবী প্লাজার সামনের মূল সড়কের অর্ধেকটা দখলে নিয়ে নিয়েছে চাষাড়া-চিটাগাং রুট এবং চাষাড়া-মোক্তারপুর রুটে চলাচলরত লেগুনা। সরেজমিনে দেখা য়ায়, এই সড়কটি তারা অবৈধ ভাবে দখল নিয়ে স্ট্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলেছেন। যদিও ইতোপূর্বে তারা এখানেই স্ট্যান্ড করেছিলন। কিন্তু এসপি হারুনের কঠোরতায় সেই স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে এসব গাড়িগুলো মিশন পাড়া মোড়ে রাখা হতো। কিন্তু তার বদলীর আদেশ হওয়ার মঙ্গলবার থেকে পূর্বের রূপে চলে আসে নবাবব সলিমুল্লাহ সড়ক।

অন্যদিকে শহরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা ব্যাপারে পুলিশের কঠোরতা থাকলেও এদিন থেকে সে চিত্র আর দেখা যায়নি। শহর ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে সেখানে পার্কিং করা হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে সিএনজি ও কভার্ড ভ্যান।

শুধু তাই নয়, এসপির বদলীর আদেশে একটি পক্ষ ইতোমধ্যে গোপন বৈঠকও করেছেন। নিজেদের বিশ্বস্ত কর্মী সমর্থক নিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই এই পক্ষটি শহরে ব্যাপক পরিসরে সমাবেশ ও শো-ডাউনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে এই পক্ষটি ব্যাপক ভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

এদিকে এতদিন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন থেকে থানা থানায় ডু মারতে শুরু করেছেন। এদের মধ্যে চরম বিতর্কিত ব্যক্তিরাও রয়েছে। সোমবার ফতুল্লা থানায় তেমনই একটি গ্রুপকে দেখা যায় থানার বড় বাবুর রুমে। তবে, হঠাৎ করে তারা কী কারণে থানায় গেলেন (?) সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও এ নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকেই বলছেন, এসপির কারণে তারা আধিপত্য হারাতে বসেছিলেন। এখন তার বদলী হওয়াতে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই এমন পদচারণা!

এমন দৃশ্যে নগরবাসী হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, এসপি আসবে যাবে। তাতে কি? প্রশাসন তো রয়েছে। পুলিশ তো রয়েছে। তাহলে তারা কেন এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না? নাকি এসপি বদলী হওয়ার সাথে সাথে পুরো পুলিশ প্রশাসন একটি গোষ্ঠীর বগল দাবায় চলে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

৫ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে