NarayanganjToday

শিরোনাম

টাকার বান্ডিলের উপর ঘুমাচ্ছেন ডিবি’র এসআই, সর্বত্র তোলপাড়


টাকার বান্ডিলের উপর ঘুমাচ্ছেন ডিবি’র এসআই, সর্বত্র তোলপাড়

টাকার উপর ক’জন ঘুমাতে পারেন, সে কি আদতে সম্ভব? রূপকথার গল্পেই শোনা গেছে ‘টাকার উপর ঘুম’। তবে, এবার বাস্তবেই দেখা গেছে টাকার উপর ঘুমোচ্ছেন একজন। তিনি আর কেউ নন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিব) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ।

পুলিশের ওই অফিসার বেঘোরে ঘুমোচ্ছেন একটি গাড়িতে। অনেকটা টাকার উপর শরীর এলিয়ে দিয়েই তিনি ঘুমোচ্ছেন। বেশ কয়েকটি বান্ডেল সেখানে। শ থেকে শুরু করে হাজার টাকার নোটেরও বান্ডেল রয়েছে! আর এমন দৃশ্য এখন ফেসবুকজুড়ে ভাইরাল।

তবে, সেখানে ঠিক কত টাকা ছিলো তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা ছিলো সেখানে। আর এই টাকাটা যে বৈধ কোনো উপায়ে আসেনি, সেটিও অনুমেয়। কেননা, ইতোপূর্বে এই এসআই আরিফ সামারিবাজ একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিতিও লাভ করেছিলেন। আর এইবার তার সামারির একটা মাত্র নমুনা দেখা গেল ওই ছবিতে।

তবে, এসআই আরিফের দাবি, ওই টাকাটা তার বৈধ উপায়ে নেওয়া। ঘটনাটি আজ থেকে ৫ মাস পূর্বের। সেসময় তার মা অসুস্থ ছিলেন। মূলত সেই জন্যই ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তিনি একজনের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন। তিনি নিজেও সেদিন অসুস্থ এবং চিন্তিত ছিলেন। ওই সময় গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন।

অপরদিকে আরিফরে দাবি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেও ছবিতে বোঝা যাচ্ছে টাকার অঙ্কটা আরও বেশি। কিন্তু ভাগ্য ভালো যে, তিনি ওই ছবিটা তার নয় কিংবা ফটোশপ করা ছবি বলে দাবি করেননি। তবে, সে যাহোক, এই টাকাটা বৈধ নাকি অবৈধ সে হিসেব কষবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

সূত্র বলছে, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক হিসেবে ধরাকে সরা জ্ঞানে পরিণিত করতে জুড়ি নেই আরিফরে। তিনি কাউকে আটক করলে একদিন দুদিন আটকে রেখে প্রথমে সামারি করার চেষ্টা তদবির করেন। পরে ব্যাটে বলে না মিললে ২৪ ঘণ্টা আগের একটি তারিখ দেখিয়ে একটি মামলার মাধ্যমে চালান দেন আটক ব্যক্তিকে।

এমনই একটি ঘটনা তিনি ঘটিয়েছিলেন গেল কিছুদিন আগে। ঘটনাটি ছিলো ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার। ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে সেখান থেকে তিনি মেহেদী নামের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। পরে তাকে ছাড়তে রাত ও পরের দিন পর্যন্ত চলে দেন দরবার। আরিফ মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়বেন তবে, এর জন্য তিনি হেঁকেছিলেন ৫ লাখ টাকা। পরবর্তী দর কষাকষিতে না মেলাতে ২১ অক্টোবর ১শ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

যদিও ওই সময় আরফি দাবি করেছিলেন, তিনি মেহেদীকে ১৯ তারিখে নয়, ২০ অক্টোবর ধরেছিলেন। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তার দেওয়া তথ্য মতো আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু মামলায় তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও ২৫ অক্টোবর রাতে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটুর অন্যতম সহযোগি জাবেদ বেপরীসহ দুজনকে আটক করেন এসআই আরিফ। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা এবং ২শ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়।

তবে, এই মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে সালমান আহম্মেদকে। তাকে ধর্মগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছিলো। কিন্তু দরকষাকষিতে না মেলাতে এই মামলায় চালান করা হয় এবং মামলায় উল্লেখ করা হয়, আটক জাবেদ বেপারী সালমানের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে থাকে।

এদিকে সূত্র জানায়, জাবেদ বেপারীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকগুলো ছিলো শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বিটুর। কিন্তু এই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতা থাকার কারণে এই মামলায় তাকে জড়ানো হয়নি। এ জন্যও হয়েছে দেওয়া-নেওয়ার হিসেব।

৬ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে