NarayanganjToday

শিরোনাম

কাশিপুর যুবলীগ সভাপতি দর্জি শ্যামল কারাগারে


কাশিপুর যুবলীগ সভাপতি দর্জি শ্যামল কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে ৫ ঘণ্টা এক কিশোরীকে আটক রেখে ধর্ষণ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে কাশিপুর ইউনিয়নের খিলমার্কেট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে কাশিপুর ইউনিয়নে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও একই ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে।

এদিকে এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ আনিসুর রহমান শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামলকে কারাগারে প্রেরণ করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১৪ বছর বয়সের কিশোরী বাড়ির কাছে আরেকটি বাড়িতে আরবি পড়ে। সেখানে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় খিলমার্কেট এলাকার মৃত মনির হোসেনের ছেলে তুর্জ (১৯) মেয়েটির পথরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দিত।

এ বিষয়ে কিশোরীর বাবা-মা কাশিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিসুর রহমান শ্যামলের কাছে বখাটে তুর্জের বিচার দাবি করেন। এতে শ্যামল উল্টো কিশোরীর বাবা-মাকে গালাগাল করে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এরমধ্যে ১৯ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় আরবি পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীকে রাস্তা থেকে ধরে তুর্জ তাদের ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে যায়।

তুর্জ এবং কিশোরীকে ফ্ল্যাটে রেখে বাহির থেকে দরজায় তালা দিয়ে চলে যায় সহযোগীরা। এরপর ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে তুর্জ। এরমধ্যে কিশোরী যথা সময় বাসায় না ফেরায় তার বাবা-মা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে অবশেষে রাত ৯টায় তুর্জের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে তুর্জের বাসা থেকে একে একে তার ২-৩ জন সহযোগীকে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় কিশোরীকে উদ্ধার করেন বাবা-মা।

ওই সময় কাশিপুর যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামল বিচার করার কথা বলে তার আড্ডাখানায় নিয়ে কিশোরীর বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখেন। এই সময়ের মধ্যে ধর্ষক তুর্জও পালিয়ে যায়। বিষয়টি কিশোরীর বাবা-মা বুঝতে পেরে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

শ্যামলের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন।

তিনি বলেন, একটি ধর্ষণ ঘটনার বিচার করে ধর্ষককে ছেড়ে দিয়ে ধর্ষকের সহযোগি হিসেবে কাজ করেছেন শ্যামল। ফলে ধর্ষণের সহায়তা করার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পালিয়ে যাওয়া ধর্ষণকারী তুর্জকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শ্যামলকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

২১ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে