NarayanganjToday

শিরোনাম

সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে শুক্কুর মাহমুদ অনুসারিদের বাধার মুখে জেলা প্রশাসন


সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে শুক্কুর মাহমুদ অনুসারিদের বাধার মুখে জেলা প্রশাসন

শহরে একটি সরকারি জমি উদ্ধারে গেলে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে বাধা দেওয়াসহ অসাদাচরণ করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খন্দাকার জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টারের বিরুদ্ধে। এসময় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে শহরের খানপুর ডন চেম্বার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টার শ্রমিক লীগ নেতা শুক্কুর মাহমুদ অনুসারি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবিদার।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অর্থয়ানে চলা ডন চেম্বার মোড়ের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুলের নামে পাশ্ববর্তী জামিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই পরিত্যাক্ত জমিটি দখল করে নেয় বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার ইউনিয়নের নামে। জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টারের নেতৃত্বে এই জমির মূল ফটকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমিটি দখলে রাখে। জেলা প্রশাসন থেকে ইতোপূর্বে জমিটির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার ইউনিয়নকে নৌটিশ করা হয়। তখন সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো, এই জমিটি বিআইডব্লিউটিসির শ্রমিকদের নামে বরাদ্দ দেওয়া। এটি তাদের বিশ্রামাগার। তখন প্রশাসন থেকে কাগজপত্র নিয়ে বসার কথা বলা হলেও তারা আর সেদিকে পা বাড়ায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এবং স্কুলের প্রয়োজনে জমিটি ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করায় বুধবার সকাল দশটার দিকে জমিটি দখল নিতে আসে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি দল। এসময় বিআইডব্লিউটিসি’র নামে দখলে রাখা জমির উপর থেকে শ্রমিক ইউনিয়নের সাইনবোর্ড অপসারণ করে স্কুলের নামে সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টারের নেতৃতে প্রশাসনের লোকজনদের বাধা প্রদান করা হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড হাসান বিন আলীর সাথে অসদাচরণের মাধ্য তর্কে জড়িয়ে যান চুন্নু মাস্টার।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সদর মডেল থানা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই উচ্চ গলায় জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টার বলতে থাকেন, এটা কি মগের মুল্লুক নাকি যে এভাবে এসে জমি দখল নিবে। এটি বিআইডব্লিউটিসির শ্রমিক ওয়ার্কার ইউনিয়নকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি শ্রমিকদের বিশ্রামাগার। এখানে এসে শ্রমিকেরা বিশ্রাম নেয়।

তবে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বলেন, এটি স্কুলের জমি। বিআইডব্লিটিসি’র লোকজন এটিকে দখল নিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছি। এখন আমরা স্কুলের জন্য এটিকে ব্যবহার করা হবে তাই এটি উচ্ছেদে আসছি। তারা দাবি করে এটি তাদের জমি। বাধা দিলে তো হবে না। আমরা বলেছি, কাগজপত্র নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আসলে এখানে তারা কেউ থাকে না। মাদকাক্তদের আড্ডাখানা এটি। নানা অপকর্ম চলে এখানে।

কালেক্টরেট পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানা আক্তার বলেন, এখানে কোনো লোক বসবাস করে না। মাদকাসক্ত লোক আসা যাওয়া করে। স্কুলের আসবাবপত্র চুরি হয়। সেই সাথে এই স্কুলটা বর্ধিত করা প্রয়োজন তাই ডিসি স্যার বরাবর জায়গার আবেদন করি। তখন পাশের জমিটির কথা জানানো হয়। বলা হয়, এখানে কেউ থাকে না। মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা এখানে। স্কুলের বাচ্চারাও এসব দেখে নানা প্রশ্ন করে তখন আমরাও বিব্রত হই। তা ছাড়া এখানকার সব শিক্ষক নারী। তারা আমাদের নানা ভাবেই সমস্যা করে। পরবর্তী বিষয়টি বোঝানোর পর এই জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২২ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে