NarayanganjToday

শিরোনাম

ধর্ষণে গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ফেনসিডিলসহ ধরা ছাত্রলীগের সেই নেতা


ধর্ষণে গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ফেনসিডিলসহ ধরা ছাত্রলীগের সেই নেতা

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ ঘটনার মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আশুগঞ্জ পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি রূপগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা আবু সুফিয়ান সোহানের। সেখানকার থানা পুলিশের হাতে তিনি ২শ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এমন তথ্য জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান। তিনি নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, নবম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে গণধর্ষণ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে আমরা তৌসিফ আহম্মেদ ও আফজাল হোসেন নামে দুজনকে রিমান্ডে এনেছি। তবে, মামলায় তিনজনকে আটক দেখালেও একজনকে এখনও হাতে পাইনি। সে আশুগঞ্জ থানায় গ্রেফতার আছে।

মাহমুদুল হাসান আরও জানান, আবু সুফিয়ান সোহানকে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ১১ জানুয়ারি ২শ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেছে। আমরা তাকে নিয়ে আসার জন্য আশুগঞ্জ প্রেঅর্ডার করেছি। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে তাকে আমরা রূপগঞ্জ থানায় নিয়ে আসতে পারবো।

আবু সুফিয়ান সোহান তারাব পৌর ছাত্রলীগের সহসভাপতি। এসব ঘটনায় রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম স্বাক্ষরিত এক আদেশে সোহানকে দল থেকে বহিস্কার করেছেন।

প্রসঙ্গত, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গন্ধর্বপুর এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে তৌসিফ ৫শ টাকা ধার নেয়। ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সে এই ধারের টাকা আনতে গন্ধর্বপুর স্ট্যান্ডে যায় এবং টাকা নিয়ে ফেরার পথে তৌসিফ, আফজাল, তারাবো পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সোহান ও তানভীরসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা শিক্ষার্থীকে রূপসী ও কর্নগোপ এলাকার পৃথক দুটি বাড়িতে দুদিন আটকে রেখে আরও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে স্কুল ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে শুক্রবার দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় সম্পৃক্ত সকলের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীসহ ওই ছাত্রীর সহপাঠিরা। তারা ১২ জানুয়ারি দুপুরে গর্ন্ধবপুর এলাকার রূপসী-কাঞ্চন সড়কে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও গাড়ির টায়ার জ¦ালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।

সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মমতাজ বেগম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে শান্ত করেন।

তিনি বলেন, অপরাধীরা যে দলেরই হউক না কেন তারা কেউ পার পাবেনা। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো।

১৩ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে