NarayanganjToday

শিরোনাম

টানবাজারের চোরাই সূতার সিন্ডেকেটে ওরা ১৮ জন


টানবাজারের চোরাই সূতার সিন্ডেকেটে ওরা ১৮ জন

ব্যবসায়ী জোন নগরের টানবাজার। সূতা ব্যবসায়ীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি। এখানেই রয়েছে বাংলাদেশের সূতা ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সূতা বিকি-কিনি হয় এই ছোট্ট টানবাজর এলাকাতেই।

তবে, বহুদিন ধরেই কথিত ছিলো এখানে সূতা ব্যবসার আড়ালে বিশাল বড় একটি চোরাই সূতা কারবারিদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বন্ড সুবিধায় আনা সূতার রমরমা ব্যবসা করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছও হয়ে গেছেন।

তবে, এত অপকর্ম করলেও এদের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি প্রশাসন। ফলে, এই চক্রটি বীরদর্পেই চালিয়ে যাচ্ছিলো এই চোরাই সূতার কারবার।

এদিকে চলতি বছরের ৮ ও ১৪ ডিসেম্বর টানবাজার এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালায় ঢাকা রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরমধ্যে ৮ ডিসেম্বর এক কোটি টাকা মূল্যের ১০ টন বন্ডেড সূতা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কাস্টমস বন্ড কমিশন। টানবাজার এলাকার হাজী বিল্লাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিসমি ইয়ার্ন ট্রেডিংয়ের গুদামে এ অভিযান চালিয়ে এই সূতা উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে ১৪ ডিসেম্বর শহরের বংশাল রোডের সুতারপাড়া এলাকার সাদ ট্রেডার্স এবং আজাদ ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৩০ টন বন্ডেড সুতা আটক করা হয়। যার মূল তিন কোটি টাকারও উপরে। পরপর দুবার চোরাই সুতা উদ্ধারের ঘটনায় টনক নড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের।

অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, দেশের বস্ত্র-পোশাকসহ বেশকিছু রফতানিমুখী খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানীকৃত পণ্যে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পায়। বন্ড বা বন্ডেড ওয়্যারহাউজ নামে পরিচিত এ শুল্ক সুবিধায় আনা পণ্য রফতানি না করে দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি করে সংঘটিত হয় শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার। এ অপব্যবহার রোধে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দীর্ঘ তদন্ত এবং অনুসান্ধানে চোরাই সিন্ডিকেটের ১৮ চোরাকারবারিকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। ঢাকা রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নাহিদুল হাসান ও আতিকুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দুটি দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরপরই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ টানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের অন্যতম হোতা সুতা ব্যবসায়ী তোতা মিয়ার ছেলে চোরাই সূতা কারবারি মো. গোলাম কিবরিয়া মামুনকে গ্রেফতার কেেরছ।

মামলার অন্যান আসামীরা হলেন, বিসমি ইয়ার্ণ ট্রেডিংয়ের হাজী বিল্লাল, জ্যামি এন্টারপ্রাইজের হাজী ইসমাইল, টানবাজারের ব্যবসায়ী ফরহাদ, এস এস থ্রেড এন্ড এক্সেসরিজের সুব্রত রায়, শুভা এন্টারপ্রাইজের বিপুল মন্ডল, মেসার্স পুলক চৌধুরীর মালিক পুলক চৌধুরী, এইচ এস ট্রেডিং এর মো. সেলিম রেজা, তোতা ইয়ার্ণ ট্রেডিং এর মো. গোলাম কিবরিয়া মামুন, জামাল ইয়ার্ণ ট্রেডিং এর আলহাজ আব্দুল মান্নান মিয়া, শিমুলিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের খান নজরুল ইসলাম, মেসার্স সাদ ট্রেডার্সের মো. জহির হোসেন, আজাদ ট্রেডার্সের মো. আওলাদ হোসেন, সুতাঘরের আমিন উদ্দিন, রিতা ট্রেডার্সের গোবিন্দ চন্দ্র সাহা, টানবাজারের ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী, যাকী এন্টারপ্রাইজের মো. সেলিম, এনবি ট্রেডিংয়ের সমির সাহা, আমিন ব্রাদার্সের রুহুল আমিন। এরমধ্যে উভয় মামলায় হাজী ইসমাইল ও ফরহাদকে আসামী করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে