NarayanganjToday

শিরোনাম

জিসানের পেটকাটা লাশ উদ্ধার হলেও কি ঘটেছে লিখনের ভাগ্যে?


জিসানের পেটকাটা লাশ উদ্ধার হলেও কি ঘটেছে লিখনের ভাগ্যে?

ফতুল্লার বক্তাবলী থেকে দুই প্রকৌশলী নিখোঁজের পাঁচদিন পর একজনের পেট কাটা লাশ উদ্ধার হলেও এখনও সন্ধান মিলেনি অপরজনের। এ নিয়ে চরম শঙ্কা আর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৬ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা প্রকৌশলী লিখন সরকারের পরিবার।

৫ জানুয়ারি ফতুল্লার বক্তাবলী রাজাপুর এলাকায় সজীবের মালিকানাধিন বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের একটি ভেকু মেরামতের জন্য ঢাকা থেকে এসেছিলেন প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জিসান ও লিখন সরকার। কাজ শেষে এদিন রাতেই বাড়ি ফেরার পথে তারা নিখোঁজ হন। দুজনই ‘বাংলা ক্যাট’ নামের একটি কোম্পানির মেকানিক্যাল ইনিঞ্জনিয়ার।

এরমধ্যে ১০ জানুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবরি দল মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে জিসানের পেটকাটা লাশ উদ্ধার করতে পারলেও সন্ধান পায়নি লিখন সরকারের। তাই প্রশ্ন উঠেছে, কী ঘটেছে লিখনের ভাগ্যে?

তবে, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ জেলা উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছেন, অপরজনকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমাদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দুই প্রকৌশলী নিখোঁজ হওয়ার পর ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ কোনো রকম সহযোগিতা করেনি। পরে বাধ্য হয়ে নিখোঁজ একজন জিসানের স্ত্রী রাকিয়া সুলতানা ঢাকার আশুলিয়া থানায় বাদি হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে জিসানের লাশ উদ্ধারের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের মালিক সজীব ও কর্মচারি পায়েল ঘটনার বিষয়ে সবকিছু জানেন। কেননা জিসান ও লিখন নিখোঁজের বিষয়টি সজীব একদিন গোপন রেখেছেন এবং তার সাথে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন সময়ে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মূলরহস্য বের হয়ে আসবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে নারায়ণগঞ্জ টুডে’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেনের সাথে। কিন্তু ফোন কলটি রিসিভ না করায় পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমানকেও কল করা হয় তার মুঠোফোনে। তিনিও তা রিসিভ না করায় কোনো রকম বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে জিসানের ফুফাতো ভাই সম্রাট জানান, জিসান ও লিখন দুজনই পরিবার নিয়ে রাজধানীর আশুলিয়া এলাকায় একই মালিকের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। জিসানের তিন বছরের ও তিন মাসের দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। নিখোঁজের ঘটনার পর থেকে জিসানের স্ত্রী রাকিয়া সুলতানা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। পিতৃহারা এই দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন স্বজনরা।

তিনি আরও বলেন, জিসানের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। অবশ্যই কেউ তাকে হত্যা করেছে। কারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে প্রশাসন তাদের যেন খুঁজে বরে করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।

১১ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে