NarayanganjToday

শিরোনাম

কাঙ্খিত ‘কদম রসূল সেতু’ চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে নির্মাণ!


কাঙ্খিত ‘কদম রসূল সেতু’ চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে নির্মাণ!

শীতলক্ষ্যা নদীর এপাড় ওপাড়ের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে খুব শিগগিরই। শীতলক্ষ্যা নদীর উপর বহুল কাঙ্খিত ‘কদম রসূল সেতু’র নির্মাণ কাজ খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সেতু নির্মাণে পরামর্শক কোম্পানী কোরিয়ার ডিএম ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেড ও কোরিয়ার ডংসাং ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেডের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

এরমধ্যে ৭ জানুয়ারি পরামর্শক ওই দুই কোম্পানির দুজন প্রতিনিধি চো একইয়াং এবং কিম কি সাক সেতু নির্মাণের স্থান শহরের ৫ নং ঘাট ও বন্দরের ইস্পাহিনী এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাদের সাথে আরও ছিলেন এলজিইডি এর প্রকল্প পরিচালক আবু সালে মো. হানিফ।

এদিকে পরামর্শক ওই দুই কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসের মধ্যে নকশা প্রণয়ন করে তা চূড়ান্ত করার জন্য জমা দিবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে। এরপরই নকশা চূড়ান্ত হলে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, চলতি বছরের মধ্যেই বহুল কাঙ্খিত ‘কদম রসূল সেতু’ নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এএফএম এহতেশামূল হক নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, পরামর্শক কোম্পানী কোরিয়ার ডিএম ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেড ও কোরিয়ার ডংসাং ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেডের সাথে আমাদের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তারা সেতু নির্মাণ স্থান পরিদর্শন করেছে। আবারও পরিদর্শন করবে। পরীক্ষা নীরিক্ষা করবে। এরপর ৬ মাসের মধ্যে সেতুর জন্য উপযুক্ত নকশা সম্পন্ন করবে।

তিনি আরও বলেন, নকশা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব নয়। তাই নকশা যত দ্রুত সম্পন্ন হবে তত দ্রুতই টেন্ডার আহ্বান করতে পারবো। আমরা আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো। তারপরও সব কিছু নির্ভর করছে পরামর্শক কোম্পানী কতটা দ্রুত নকশা প্রস্তুত করতে পারে।

শীতলক্ষ্যা নদরীর উপর ‘কদম রসূল সেতু’ প্রকল্প ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একনেকে পাস হয়। এর মোট ব্যয় ধার্য করা হয়েছে ৫শ ৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। উভয় পার্শ্বে ফটপাতসহ ১ হাজার ৩শ ৮৫ মিটার দৈর্ঘ্য (মূল ব্রিজ ৩শ মিটার) এবং এর প্রস্থ ১২ দশমিক ৫ মিটার। সম্প্রতি এর নকশা (সম্ভাব্য) সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ‘কদম রসূল’ সেতুটি নগরীর ৫ নং ঘাট থেকে ইস্পাহানি এলাকা দিয়ে নির্মাণ করা হবে। এটি নির্মাণ হলে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে এতদিন যে বৈষম্য ছিলো তা দূর হবে। এছাড়াও দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে সহজতর যোগাযোগের জন্য শীতলক্ষ্যার উপরে এই সেতুটি ছিলো বহুল কাক্সিক্ষত।

কয়েক লাখ মানুষের প্রাণের দাবি শীতলক্ষ্যা সেতুর বরাদ্দ গত বছর পাশ হওয়াতে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলো দুই পাড়ের মানুষ। সেই উচ্ছ্বাসের মাত্রা আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মেয়র আইভী। তিনি তার গেল বছর বাজেট ঘোষণায় নগরবাসীর জন্য এটিই দিয়েছেন সব থেকে বড় চমক। এমনটিই বলছেন নগরবাসী। তারা এখন অপেক্ষা করছে চলতি বছরের ডিসম্বেরের।

নগরবাসী প্রত্যাশা করেন, এই ডিসম্বরেই শীতলক্ষ্যার উপর নির্মিতব্য ‘কদম রসূল’ সেতুটি দৃশ্যমান হবে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে এর ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

১১ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে