NarayanganjToday

শিরোনাম

‘আখতার কমিশন’ নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা


‘আখতার কমিশন’ নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে উত্তাপ ছড়াচ্ছে আদালত পাড়ায়। এক পক্ষ বলছে, সাধারণ আইনজীবীদের তোয়াক্কা না করেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

তবে, বর্তমান কমিটি বলছে, সবার মতামতের ভিত্তিতেই কমিশন গঠন হয়েছে। সংবিধান অনুয়ায়ি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন সমস্ত দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

এদিকে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ফেরদৌস হাসান জুয়েল ও মোসীন মিয়া গায়ের জোরে তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন ছিনতাই করতে চাচ্ছে।

প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীদের একাংশ। তারাও দাবি করছেন, সাধারণ আইনজীবীদের মতামতকে তোয়াক্কা না করেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন গঠনেরও দাবি করেছেন তারা।

এছাড়াও দলের বাইরে থাকা সাধারণ আইনজীবীরাও বলছেন একই কথা। তারাও বলছেন, দল নিরপেক্ষ, সৎ এবং সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিদের দ্বারা নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা। একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশে উৎসব মুখোর নির্বাচন তারা প্রত্যাশা করছেন।

তবে, আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল দাবি করেছেন, সবার সম্মতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় এবং সবার নামই প্রকাশ করা হয়। সভায় সমস্বরে নির্বাচন কমিশনকে পাশ করিয়েছে। এ নিয়ে এখন বিরোধীতার কিছু নেই। আর যারা বিরোধীতা করছে তারা নিজেদের স্বার্থে করছে। এদের সংখ্যা মুষ্টিমেয় কয়েকজন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, গতবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আখতার হোসেন। তার উপর সবাই সন্তুষ্ট। এবার তিনি রয়েছেন। তার সাথে রয়েছেন আরও চারজন। তারা হচ্ছেন, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আশরাফ হোসেন, মেরিনা বেগম, আব্দুর রহিম ও শুক চাঁদ। সর্বসম্মতিক্রমেই এই পাঁচজনের নাম এজিএমে পাশ হয়েছে।

এদিকে আদালত পাড়ায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ‘নির্বাচন কমিশন’ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। তবে, সেই উত্তেজনার পারদ আরও বেশি ছড়িয়ে দিয়েছে বহিরাগতদের শো-ডাউন। এ নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছেন বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা।

এ ব্যাপারে অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আইনজীবীদের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং আদালতকে কুলষিত করার জন্য সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য বহিরাগতদের এনে পেশি শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আদালত পাড়ায় অবস্থান নেন। কেউ কেউ তাদের এই অবস্থানকে শো-ডাউন হিসেবেও মন্তব্য করেছেন।

তবে, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেছেন, তারা কোনো শো-ডাউন করতে আদালতে যাননি। একটি মামলার হাজিরা থাকাতে আদালতে তারা এসেছিলেন। খবর পেয়ে তাদের অনুসারি নেতাকর্মীরাও আদালতে আসেন। পরে তারা জানতে পারেন আজ নয় আগামী কাল তাদের হাজিরা। এরপরই নতুন বার ভবন পরিদর্শন করেন এবং আইনজীবী সমিতির নেতাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন ও নির্বাচনের কী অবস্থা সে নিয়ে কথাবার্তা বলে বিদায় নেন।

১২ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে