NarayanganjToday

শিরোনাম

সেই ছাত্রলীগ নেতা সোহান গাজী অনুসারি, সমালোচনার ঝড়!


সেই ছাত্রলীগ নেতা সোহান গাজী অনুসারি, সমালোচনার ঝড়!

একজন পরিচ্ছন রাজনীতিক হিসেবেই সর্বত্র পরিচিত গোলাম দস্তগীর গাজী। দলের প্রতি তার আনুগত্য ও সততার পুরস্কার স্বরূপ তিনি তিন তিনবার দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত এমপি। সর্বশেষ তাকে সরকারের মন্ত্রী সভাতেও যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও গোলাম দস্তগীর গাজীর ছেলে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা গাজীও সর্বজন স্বীকৃতি সজ্জন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর পরিচালকও। এছাড়াও পিতার উত্তরসূরী হিসেবে রাজনীতিতেও তার বেশ সুনাম রয়েছে। তরুণ একজন রাজনীতিক হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত পাপ্পা গাজী। তবে, এই দুই স্বচ্ছ ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে উঠছে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষক! এমন বলা হচ্ছে, তাদের অনুসারি ছাত্রলীগ নেতা আবু সুফিয়ান সোহানকে কেন্দ্র করে।

তারাব পৌর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান সোহান রূপগঞ্জ উপজেলায় গোলাম দস্তগীর গাজী ও পাপ্পা গাজীর অনুসারি হিসেবে পিরিচত। এছাড়াও বলা হয়ে থাকে, পাপ্পা গাজীর আশীর্বাদেই পৌর ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ পেয়েছেন আবু সুফিয়ান সোহান।

সম্প্রতি রূপগঞ্জে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার আসামী হয়েছেন আবু সুফিয়ান সোহান। ৯ জানুয়ারি উপজেলার গন্ধপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে স্থানীয় এক স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দুদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামী ছাত্রলীগের এই নেতা।

এদিকে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন আবু সুফিয়ান। তবে, ধর্ষণ মামলা থেকে গ্রেফতার এড়াতে রূপগঞ্জ থেকে পালালেও আশুগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ২শ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

তিনি নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, নবম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে আমরা তৌসিফ আহম্মেদ ও আফজাল হোসেন নামে দুজনকে রিমান্ডে এনেছি। তবে, মামলায় তিনজনকে আটক দেখালেও একজনকে এখনও হাতে পাইনি। সে আশুগঞ্জ থানায় গ্রেফতার আছে।

মাহমুদুল হাসান আরও জানান, আবু সুফিয়ান সোহানকে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ১১ জানুয়ারি ২শ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করেছে। আমরা তাকে নিয়ে আসার জন্য আশুগঞ্জ প্রেঅর্ডার করেছি। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে তাকে আমরা রূপগঞ্জ থানায় নিয়ে আসতে পারবো।

এদিকে ধর্ষণ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী এবং আশুগঞ্জে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হওয়ার খবরে আবু সুফিয়ান সোহানকে ছাত্রলীগ থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিস্কার করা হয়েছে।

১২ জানুয়ারি রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম স্বাক্ষরিত এক আদেশে সোহানকে দল থেকে বহিস্কার করেছেন। তবে, এরপরও সোহানকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা থেমে নেই। বলা হচ্ছে, গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার ছেলে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা গাজীর আশ্রয়ে থেকে আবু সুফিয়ান সোহান তারাব এলাকাজুড়ে নানা অপকর্ম করে বেড়িয়েছি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা গাজীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তা সচল পাওয়া যায়নি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো রকম বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছেন, গোলাম মর্তুজা পাপ্পা গাজী দেশের বাইরে রয়েছেন।

অপরদিকে এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিলো রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম সিকদারের সাথে। তিনি নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, সোহানের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কোনো অভিযোগ ছিল না। দলেও অ্যাক্টিভ ছিল। সে কারণে তাকে একটি ব্লক থেকে সহসভাপতি বানানো হয়েছে। কিন্তু এখন যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাই তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগে থেকে কেউ অপকর্ম করবে সেটাতো মেনে নেওয়া হবে না।

ফয়সাল আরও বলেন, মন্ত্রী সাহেব কিংবা তার ছেলে পাপ্পা গাজী সাহেব কখনোই অপরাধীদের প্রশ্রয় দেননা। ভবিষ্যতেও দিবে না। এমনকি তাকে বহিস্কার করার পরও এ নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ বা সুপারিশ করা হয়নি। তাছাড়া তাকে তো বহিস্কার করা হয়েছে, তাহলে এখন সে কার লোক ছিলো, কার শেল্টারে ছিলো সে নিয়ে বলার কি আছে?

এদিকে সচেতন মহল মনে করেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার ছেলে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা যেমন ক্লিন ইমেজের মানুষ তাই তাদের কাছে ঘেঁষতে চাওয়া এবং কাছে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি আরও সতর্ক হওয়া দরকার। নয়তুবা সোহানদের মত এমন আরও যারা রয়েছে তাদের জন্য সমালোচনায় পড়বেন তারা।

প্রসঙ্গত, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গন্ধর্বপুর এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে তৌসিফ ৫শ টাকা ধার নেয়। ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সে এই ধারের টাকা আনতে গন্ধর্বপুর স্ট্যান্ডে যায় এবং টাকা নিয়ে ফেরার পথে তৌসিফ, আফজাল, তারাবো পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সোহান ও তানভীরসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা শিক্ষার্থীকে রূপসী ও কর্নগোপ এলাকার পৃথক দুটি বাড়িতে দুদিন আটকে রেখে আরও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে স্কুল ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে শুক্রবার দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় সম্পৃক্ত সকলের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীসহ ওই ছাত্রীর সহপাঠিরা। তারা ১২ জানুয়ারি দুপুরে গর্ন্ধবপুর এলাকার রূপসী-কাঞ্চন সড়কে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও গাড়ির টায়ার জ¦ালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।

সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মমতাজ বেগম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে শান্ত করেন।

তিনি বলেন, অপরাধীরা যে দলেরই হউক না কেন তারা কেউ পার পাবেনা। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো।

১৩ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে