NarayanganjToday

শিরোনাম

সাখাওয়াত একজন মিথ্যাবাদী লম্পট, চরিত্রহীন : ওয়াজেদ আলী


সাখাওয়াত একজন মিথ্যাবাদী লম্পট, চরিত্রহীন : ওয়াজেদ আলী

অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে ‘মিথ্যাবাদী, লম্পট, চরিত্রহীন, তার কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. ওয়াজেদ আলী খোকন। একই সঙ্গে তিনি সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করবেন বলেও জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এক অভিযোগ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ টুডে’র পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাইলে অমনটাই বলেন ওয়াজেদ আলী খোকন।

তবে, এ প্রসঙ্গে অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ‘যে বলছে এ কথা তার ভিডিও আমাদের কাছে আছে।’

এর আগে অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেষাংশে অভিযোগ করে বলেছিলেন, “বর্তমান পিপি আমাদের প্রার্থীদের হাত পা কেটে নেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করার কারণে আমরা মনে করি, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো রকম সম্ভব নয়। তাই আমরা সর্বসম্মতিক্রমে এই নির্বাচন বয়কট করছি।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. ওয়াজেদ আলী খোকন নারায়ণগঞ্জ টুডে’কে বলেন, মিথ্যাবাদীরা সবসময়ই মিথ্যাবাদী। আজকে আমি সারাক্ষণ কোর্টেই ছিলাম। তারপর এপিপি পিপিদের নিয়ে রাইফেল ক্লাবে আসছি। মিনিট দশেক আগে আমি আমার প্রোগ্রাম শেষ করেছি। আমার সাথে তাদের কোনো প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। দেখাও হয়নি।

তিনি বলেন, সকাল নয়টা থেকে এগারটা পর্যন্ত জজ সাহেবের খাস কামরায় ছিলাম। বনভোজন নিয়ে কথা বলার জন্য। সেখানে হুমায়ূন আর রফিক জজ সাহেবের সাথে ঔদ্ধত্তপূর্ণ আচরণ করছিলেন। জজ সাহেব তো আর নির্বাচনের বিষয়ে কোনো কিছু না। তখন আমি বলছি, এটা তো বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের খাস কামরা, আপনারা নির্বাচন কমিশনে যেয়ে রিসিভ করে নিয়ে যান। এইটুকুই আমরা বক্তব্য তাদের সাথে। এর বাইরে কোনো কথা হয়নি। তারা মিথ্যাবাদী। ঢাহা মিথ্যা কথা এসব।

পিপি বলেন, তারা নির্বাচন করার মত যোগ্যতা রাখতেন, গততে দেখেছেন, তারা একটা পরিচিতি সভা করে নাই। এবং আইনজীবীদের নিয়ে কোনো রকম সভা করে নাই। তারা শুধু আন্দোলন করবেন আর আন্দোলনের ফসল উঠাবেন সে জন্য নির্বাচনে গেছেন। এতেই বুঝা যায়, তারা একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যই নির্বাচন করছেন।

তিনি আরও বলেন, এই সাখাওয়াত খান ২০০১ সালের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে সাখাওয়াত খান, ভাষাণী, বারী ভূঁইয়া, হুমায়ূন সাহেবরা অনেক আইনজীবীকে আহত করেছেন। এবং তাদের অত্যাচারে দীর্ঘ তিন বছর খোকন সাহা, আনিসুর রহমান দিপুসহ অনেক আইনজীবী কোর্টে আসতে পারে নাই। আমার চেম্বারটা এই সাখাওয়াত, ভাষাণীরা নিজ হাতে ভেঙে দিয়েছিলো। আমার যে গ্রাউন্ড সেটা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।

খোকন বলেন, আমরা ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে মাসউদুর রউফের গায়ে হাত দিছে। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে আমি ওয়াজেদ আলী খোকন, এমপিদেরকে বুঝিয়ে যাতে কোনো রকম কিছু না হয়, প্রত্যেককে বাসা থেকে ডেকে এনে এখানে দিয়েছি। এবং আমি পিপি হওয়ার কারণে, উনারা সব থেকে ভালো আছেন পেশা করছেন, সন্তানাদি নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। আমাদের আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের থেকে অনেকে ভালো আছেন।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার, শামীম ওসমান সেলিম ওসমান আছে বলেই ১৩১৩ জন আইজবীর বসার জন্য ভবন হচ্ছে। হূময়ূনে একসময় দুই লক্ষ টাকা নিয়ে প্রেসিডেন্টশিপ প্রত্যাহার করছে। আরেক সময় তৈমূর আলম খন্দকার দুইটা কম্পিউটার দেওযার কথা বলে এখনও পর্যন্ত দেন নাই। তাদের শাসন আমলে বারের দরজা জানালা, বাথরুমের সমস্ত জিনিস, গ্রীল বিক্রি করে বাড়িতে টাকা নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস এখনও সমিতি থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নিয়েও সে টাকা ১২ বছরেও পরিশোধ করে নাই। এটাই হচ্ছে বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের স্বভাব-চরিত্র। তারাতো মিথ্যা বলবেই। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। মহানগর আওয়ামী লীগের আইন-বিষয়ক সম্পাদক। আমার দায়িত্ব কর্তব্য আছে, এই প্যানেলের সদস্য সচিব আমি। নির্বাচনটাকে আমেজপূর্ণ, উৎসবমুখর করার জন্য যত রকম যা করণীয় তা কিন্তু আমি করছি। এর কারণে তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা কথাটা বলছে। আমি আগামীকালই তাদের বিরুদ্ধে এবং আপনাদের পত্রিকায় আসলে পত্রিকার সম্পাদকসহ উভয়কেই আসামী করে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করবো। কারণ আমার রাষ্ট্রীয় পদ। সেখানে আমার সম্পর্কে বলতে গেলে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে।

তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে যদি সাখাওয়াত বলে তাহলে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করবো। আমার নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই মামলা করবো। সাখাওয়াতের মতো একজন মিথ্যাবাদী, লম্পট, চরিত্রহীন, যার কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি নাই, তার কথায় যদি আপনেরা বলেন যে, জেলা পিপি এই ধরণের কথা বলেছে। জেলা পিপি বরংচ গতকাল রাত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনকে হুমকি দিয়েছেন এ নিয়ে বিভিন্ন স্তর থেকে তাদের নামে মামলা রেডি ছিলো, পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করবে, আমি তাদেরকে রক্ষা করেছি। রাত্রে আমি তাদেরকে খবর দিয়েছে যে, রাত্রে একটু সাবধানে থাকেন বাকিটা আমি কন্ট্রোল করতেছি। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তাদের একজন নেতার কাছে বলেছি, এদেরকে একটু সংযত রাখেন।

পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আমি কিন্তু তাদেরকে রক্ষা করেছি। গতকাল রাতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মামলা করবেন। এবং রাত্রেই তারা সবাই গ্রেফতার হন। আমি সবাইকে নিবৃত করেছি। যাতে সুষ্ঠু একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবং বিপক্ষ প্রার্থী ও যারা উস্কানি দিচ্ছে তাদেরকে কিছু করা যাবে না। নির্বাচনের পরে যা করার কইরেন। আমি নির্বাচনটা সুষ্ঠু করার জন্য তাদেরকে সহযোগিতা করছি। আমার একটা সহযোগিতার হাত তাদের দিকে এগিয়ে দিয়েছি আমি একটা দলে থেকেও। আমি নির্বাচনমুখী মানুষ। নির্বাচন পছন্দ করি। সুতরাং কোনো মিথ্যা কথা বলে আমাকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমি মাঠে আছি থাকবো।

তিনি আরও বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ঢাহা মিথ্যা। আমি রাষ্ট্রের একশ আইনজীবী নিয়ে বসছি শুনেই তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমার সাথে কিন্তু তাদের কারোই দেখা সাক্ষাৎ হয় নাই। শুধু জজ সাহেবের রুমে ছাড়া। তখন আমি তাদের আমি আরও বলেছি, হুমায়ূন ভাই এটা কি করছেন, এটা তো নির্বাচন কমিশন না। আপনারা নির্বাচন কমিশনে যান। তখন জোর করে তাদের বের করে দিয়েছি।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমার কথাগুলো হুবহু লিখেন। তারপরও আমি বিশ্বাস করি একটা সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কেউ কারো প্রতি কোনো রকম কটাক্ষ করে একটা কথাও বলবে না। একটা আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। আমি পিপি হিসেবে পুলিশ সুপার, র‌্যাব, বিজিবিসহ সবাইকে অবহিত করছি। যাতে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করি। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি।

পিপি বলেন, নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা গতকালই শেষ হয়ে গেছে। তারপরও উনার যেটা করেছেন এটা অবৈধ কার্যকলাপ। তবে, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তাদেরকে অনুরোধ করেন, আগামী কালের নির্বাচন একটা অংশগ্রহণমূলক হবে। এবং বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ভোট দিবে, এক্ষেত্রে জেলা পিপি হিসেবে যত রকম সাহায্য সহযোগিতা তাদেরকে করবো।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মবাণ্ডে উনারা যদি ক্ষুব্ধ হয় তাহলে সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। আমার সঙ্গে তো নির্বাচন কমিশনের কোনো সম্পর্ক নাই। আমি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি। আর সাখাওয়াত সাহেব একটা প্যানেলের নেতৃত্ব দেন। আমি একটা প্যানেলের নেতৃত্ব দিই। সেখানে তার আর আমার মধ্যে কোনো ভিন্নতা নাই। কে কি বললো, কে কি করলো সেটা শুইনাই সাখাওয়াত সাহেব। তিনি বলতে পারবেন, গত তিন চারদিন তার সাথে আমার দেখা হয়েছে?

তিনি বলেন, গত পরশুদিন না জানি এর আগের দিন আসলেন, বললেন, এটাতো আমাদের রাজনৈতিক মামলা, এটা যদি একটু আগে দিয়ে দিতেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে স্যারকে অনুরোধ করে বললা, স্যার এটা দিয়া দেন। উনি ইলেকশন করতেছেন। ব্যস্ত। আমি তাকে আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন তাকে পাঠায়ে দিলাম। এজন্য মানুষের বংশগত মর্যাদা, মানগত মাপকাঠি যদি না থাকে তার কোনো চরিত্রই থাকে না। তারা একসময় কারো কান্ধে চড়ে, একসময় ওসমান পরিবারের ফ্যাক্টরীতে যেয়ে বইসা থাকে মেয়র নির্বাচনের সময়। এসবতো আমরা সাক্ষী। খারাপ চরিত্রের লোক ভালা হয় না।

পিপি বলেন, জুনিয়র একটা অ্যাডভোকেটের কাছে যদি কোনো কথা শুনে তাহলে সেটা আমাকে আগে জিজ্ঞেস করবে। আমার বক্তব্য নেওয়ার পরে তুই বক্তব্য দে। এজিএমের সময় আমি তাদের সবাইকে বলেছি, আপনারা আমাদের সারিতে বসবেন। আমি জুয়েলকে দিয়ে ডেকে তাদেরকে বসিয়েছি। বিরোধী দল হইসে বলে কি হইসে। আমি আছে বলে সুন্দর একটা পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি চলে। কোনো সময় আমি কাউকে অন্যদৃষ্টিতে দেখি না। আমি খুব মর্মাহত ব্যথিত যে, সাখাওয়াত সাহেবের মত একজন ব্যক্তি এই ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করলেন।

তিনি বলেন, আখতার সাহেবকে তারা যখন মারতে গেলেন। আমি আরও দৌঁড়ে গিয়ে তাকে বলেছি, স্যার মাফ করে দেন। ওরা তো আপনার সন্তানতুল্য। মামলা মোকাদ্দমায় আপনাকে যেতে হবে না।

২৮ জানুয়ারি, ২০২০/এসপি/এনটি

উপরে